নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা না হলেও চলতি বছরেই রয়েছে ঝাড়খণ্ড বিধানসভা নির্বাচন। সেই উপলক্ষে ইতিমধ্যেই প্রচার শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। গত শুক্রবার এই রাজ্যে ভোট প্রচারে গিয়েছিলেন বিজেপি নেতা তথা দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেখানে গিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের উলটো করে ঝোলাব।’ শাহ বলেছিলেন, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা বা জেএমএম (ঝাড়খন্ড রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল), রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) ও কংগ্রেস ভোটের জন্য ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের’ সহায়তা করছে। ‘বিজেপি ঝাড়খণ্ডে সরকার গঠন করে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করবে।’
শাহর মন্তব্যের কারনে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। ঢাকায় অবস্থিত ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনারের কাছে এই ঘটনায় চিঠি পাঠায় বাংলাদেশ সরকার। যেখানে শাহের মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ভারতের রাজনৈতিক নেতারা বাংলাদেশকে নিয়ে যে ধরনের মন্তব্য করছে তা অত্যন্ত আপত্তিকর। ভারত সরকারের উচিৎ রাজনৈতিক নেতারা এই ধরনের মন্তব্য যাতে না করেন তার জন্য তাঁদের সতর্ক করা। পাশাপাশি আরও বলা হয়েছে, এহেন মন্তব্য দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতার মনোভাবকে ক্ষুন্ন করছে।
উল্লেখ্য, নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ বলেছিলেন,‘ভোটব্যাংক হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে জেএমএম, আরজেডি এবং কংগ্রেস অনুপ্রবেশ বন্ধ করছে না। যদি আপনারা ঝাড়খণ্ডের সরকার পরিবর্তন করেন তাহলে আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, ঝাড়খণ্ড থেকে একজন একজন করে সব রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে বের করে দেবে বিজেপি।’
শাহর কথায়, ‘যে সরকার অনুপ্রবেশকারীদের মাধ্যমে উপজাতি মেয়ে এবং তাদের সংস্কৃতিকে ধ্বংস করছে তাদেরকে সরিয়ে দিয়ে পরিবর্তন আনতে হবে। চাকরির জন্য আমার উপজাতি ভাই ও বোনেরা দেশের বিভিন্ন অংশে যান। এর পরিবর্তে এমন একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে যে সরকার সাঁওতাল পরগণার জন্য কর্মসংস্থান নিয়ে আসবে। আমরা শুধু মুখ্যমন্ত্রীর পরিবর্তন চাই না। আমরা চাই ঝাড়খন্ডকে পাল্টে দিতে।’ ‘৫ বছরের জন্য ঝাড়খন্ডে আপনাদের উচিত বিজেপির সরকার গঠন করা। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, সাঁওতাল পরগনায় যেসব বাংলাদেশির অনুপ্রবেশ হয়েছে তাদেরকে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখবে আমাদের সরকার।’



