দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত মানচিত্রে নতুন ইঙ্গিত। ভারতের ‘সিঁদুর অভিযান’-পরবর্তী সংঘাতে পাকিস্তানের ব্যবহৃত চিনা যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে আগ্রহ দেখাতে পারে বাংলাদেশ—এমনই দাবি করছে পাক সংবাদমাধ্যম। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ইসলামাবাদের সঙ্গে ঢাকার সামরিক সম্পর্ক যে নতুন সমীকরণের দিকে এগোচ্ছে, তারই ইঙ্গিত মিলল দুই দেশের বায়ুসেনাপ্রধানের সাম্প্রতিক বৈঠকে। বিষয়টির উপর নজর রাখছে নয়াদিল্লিও।
পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদপত্র Dawn জানাচ্ছে, চিনের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি JF-17 Thunder যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে বাংলাদেশ ইতিবাচক আলোচনা করেছে। এই যুদ্ধবিমানটি ২০২৫ সালে ভারতের ‘সিঁদুর অভিযান’-পরবর্তী সংঘাতের সময় পাকিস্তান ব্যবহার করেছিল বলে দাবি। সেই প্রেক্ষাপটেই এই সম্ভাব্য চুক্তিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা।



পাক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, সম্প্রতি ইসলামাবাদ সফরে যান বাংলাদেশের বায়ুসেনাপ্রধান Hasan Mahmood Khan। সেখানে তাঁর সঙ্গে বৈঠক হয় পাকিস্তানের বায়ুসেনাপ্রধান Zaheer Ahmed Babar Sidhu-র। মাহমুদ খানকে আনুষ্ঠানিক ‘গার্ড অফ অনার’ও দেওয়া হয়। ওই বৈঠকেই জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কেনার প্রসঙ্গ উঠে আসে বলে দাবি করা হয়েছে। শুধু বৈঠকই নয়, বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল পাকিস্তানি বায়ুসেনার একাধিক ঘাঁটিও পরিদর্শন করেছে—যা থেকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গভীর হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার জমানায় বাংলাদেশ কূটনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। সন্ত্রাস দমন থেকে আঞ্চলিক স্থিতাবস্থা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে নয়াদিল্লি ও ঢাকার সমন্বয় ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু সরকার বদলের পর পরিস্থিতি বদলেছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্মৃতিকে ছাপিয়ে ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্ক উষ্ণ করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে ঢাকার নীতিতে।
সূত্রের দাবি, ওই বৈঠকে কেবল যুদ্ধবিমান কেনা নয়, প্রশিক্ষণ, বায়ুসেনা ঘাঁটির পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পাকিস্তানের বায়ুসেনাপ্রধান সিধু নাকি তাঁর দফতরকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের বায়ুসেনাকে প্রশিক্ষণ দিতে এবং দ্রুত যুদ্ধবিমান সরবরাহে আগ্রহী ইসলামাবাদ। যদিও এই বিষয়ে এখনও ঢাকার তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও ঘোষণা আসেনি।


এই সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দক্ষিণ এশিয়ার শক্তির ভারসাম্যে কী প্রভাব ফেলতে পারে—তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। বিশেষত, ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



