বাংলাদেশে ফের সংখ্যালঘু নিধন: প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে ঝাঁপ, তবুও মৃত্যু খোকন দাসের

বছরের শেষ দিনে হামলার শিকার হয়েছিলেন হিন্দু নাগরিক খোকন দাস। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর শনিবার তাঁর মৃত্যু হয়। ধারাবাহিক হামলায় সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার অভিযোগ নতুন করে সামনে এল। বছরের শেষ দিনে হামলার শিকার হওয়া হিন্দু নাগরিক খোকন দাস গুরুতর জখম অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার মারা গিয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে-বিদেশে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে।

কী ঘটেছিল খোকন দাসের সঙ্গে

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় পঞ্চাশ বছর বয়সি খোকন দাস নিজের বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় একদল উন্মত্ত ব্যক্তি তাঁর উপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ। মারধরের পর তাঁকে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি কাছের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন। প্রাথমিক ভাবে প্রাণে বেঁচে গেলেও শরীরের গুরুতর ক্ষত নিয়ে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার তিনি মারা যান বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে। খোকন দাসের স্ত্রী বলেন, “আমরা জানি না কারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। আমার স্বামী কারও ক্ষতি করতেন না। আমরা শুধু ন্যায়বিচার চাই।”

ধারাবাহিক হামলার অভিযোগ

এই ঘটনাটি সাম্প্রতিক কালে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর ঘটেছে বলে অভিযোগ ওঠা একাধিক হামলার মধ্যে আরেকটি। এর আগে ২৪ ডিসেম্বর কালিমোহর ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা এলাকায় অমৃত মণ্ডল নামে এক যুবককে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ ওঠে। ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় দীপুচন্দ্র দাসকে মারধরের পর ঝুলিয়ে দেওয়া এবং পরে তাঁর শরীরে আগুন লাগানোর অভিযোগ সামনে আসে।

প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

খোকন দাসের চিকিৎসা চলাকালীন তাঁকে ঢাকার Dhaka Medical College Hospital-এ স্থানান্তর করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচাতে পারেননি।

বর্তমানে Muhammad Yunus-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংখ্যালঘুদের উপর হিংসা বাড়ছে—এমন অভিযোগ তুলেছে একাধিক মানবাধিকার সংগঠন। ভারতের তরফেও আগে একাধিক ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও ঢাকার প্রশাসনের দাবি, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বজায় রয়েছে এবং এগুলি বিচ্ছিন্ন ঘটনা।

প্রশ্নের মুখে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা

তবে পরপর মৃত্যুর ঘটনায় সেই দাবি ঘিরে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে Bangladesh-এ সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ভূমিকা কী হওয়া উচিত—তা নিয়েই আলোচনা তীব্র হচ্ছে।

খোকন দাসের পরিবারের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত শাস্তি। এই দাবি শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং ক্রমবর্ধমান আতঙ্কে থাকা সংখ্যালঘু সমাজেরও—এমনটাই মত পর্যবেক্ষকদের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Arka Sana

Arka Sana

Founder & Editor, Najarbandi
16+ Years Experience • Political Reporting • Investigative Journalism • Digital Publishing

অর্ক সানা একজন সাংবাদিক, সম্পাদক, মিডিয়া উদ্যোক্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। অপরাধ সাংবাদিকতা, রাজনৈতিক রিপোর্টিং, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং ডিজিটাল নিউজ প্রকাশনায় তাঁর ১৬ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি নজরবন্দি-র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক।

View Full Author Profile →

বিজ্ঞাপন

আরও খবর