বাংলাদেশ ক্রিকেটে অশান্তি যেন পিছু ছাড়ছেই না। এক বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে ফের তোলপাড়—এ বার সরাসরি ম্যাচ বয়কটের ডাক দিলেন ক্রিকেটাররা। খেলোয়াড়দের দায়বদ্ধতা নিয়ে কটাক্ষ করে নাজমুল হকের মন্তব্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়ায় বর্তমান ও প্রাক্তন ক্রিকেটারদের মধ্যে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, ঘরোয়া ক্রিকেটের পাশাপাশি বাংলাদেশের আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপ অভিযান নিয়েও প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত নাজমুল হকের বক্তব্য থেকে। তিনি দাবি করেন, যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার পরও বহু ক্রিকেটার নিজেদের প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এই মন্তব্যকে ‘অসম্মানজনক’ বলে আখ্যা দেন ক্রিকেটাররা। সোশ্যাল মিডিয়াতেও শুরু হয় তীব্র প্রতিবাদ। চাপে পড়ে দুঃখপ্রকাশ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
বিসিবির বিবৃতিতে স্পষ্ট জানানো হয়, বোর্ডের কোনও মুখপাত্র বা মিডিয়া বিভাগের অনুমোদিত ব্যক্তি না হলে সংশ্লিষ্ট মন্তব্যের দায় বিসিবি নেবে না—অর্থাৎ নাজমুল হকের বক্তব্য একান্তই ব্যক্তিগত। এই অবস্থানে বোর্ড অনড় না থাকলে বৃহস্পতিবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ম্যাচ বয়কটের হুঁশিয়ারি দেন ক্রিকেটাররা। পাল্টা বোর্ড জানায়, খেলোয়াড়দের উদ্দেশে অপমানজনক মন্তব্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিসিবির বক্তব্য, “বাংলাদেশ ক্রিকেটের হৃদপিণ্ড আমাদের প্লেয়াররা। তাঁদের অবদান ও সম্মান আমাদের কাছে অগ্রাধিকার।”
এটাই প্রথম নয়। আগেও নাজমুল হক বিতর্কে জড়িয়েছেন। একসময় প্রাক্তন অধিনায়ক তামিম ইকবাল-কে ‘ভারতীয় এজেন্ট’ বলেও কটাক্ষ করেছিলেন তিনি। সেই প্রসঙ্গের রেশ টেনেই ফের উত্তাপ। এরই মধ্যে বিশ্বকাপ ভেন্যু নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন জট। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। মুস্তাফিজুর রহমান-এর আইপিএল চুক্তি বাতিলের পর সেই দাবি আরও জোরাল হয়।
এই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিশ্বকাপ ভেন্যু নিয়ে আইসিসি-র সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বসে বিসিবি। বৈঠকে বোর্ডের প্রতিনিধিত্ব করেন সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সহ-সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন, ফারুক আহমেদ, নাজমুল আবেদিন ও নিজাম উদ্দিন চৌধুরী। বৈঠকে নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে বিসিবি—স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, ভারতীয় ভেন্যুতে খেলতে রাজি নয় বাংলাদেশ। আইসিসি কর্তারা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানালেও এখনও কোনও সমাধানসূত্র মেলেনি।


বিশ্বকাপের আর এক মাসও বাকি নেই। অংশগ্রহণকারী দলগুলি যখন প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, তখন বাংলাদেশ ক্রিকেটে এই ডামাডোল উদ্বেগ বাড়াচ্ছে সমর্থকদেরও।









