নজরবন্দি ব্যুরোঃ বিজেপি ছেড়ে সদ্য তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন বাবুল সুপ্রিয়। মন্ত্রীত্ব খোয়ানো থেকে ভোটে হারা, গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সমান্তরালে জল্পনা ছিল বাবুলের তৃণমূল যোগ নিয়েও। সেসব পারিয়ে ১৮ তারিখেই ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। মা-মাটি-মানুষের দলে যোগ দিয়েই জানিয়েছিলেন, আজ সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ শুভেন্দুকে মানেন না BJP-র ২৪ বিধায়ক, খেলা বাকি আছে… বোঝালেন কুণাল!
পূর্ব পরিকল্পনা মতোই আজ ভরা বৃষ্টি মাথায় নিয়ে নবান্নতে হাজির হয়েছেন তিনি। সূত্রের খবর মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে উভয়ের কথা হয়েছে বেশ অনেক্ষণ ধরেই। সাক্ষাতের পরে উচ্ছসিত বাবুল জানিয়েছেন, “আমি আজ খুশি। দিদির ভালবাসা, উষ্ণ অভ্যর্থনায় আমি আপ্লুত। মন খুলে কাজ করতে পারব।” একই সঙ্গে জানান, “এর আগেও একাধিকবার দিদির সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। বিভিন্ন বিষয় কথা হয়েছে। এদিনও তাই হল। অন্য জায়গা থেকে এখানে এসেছি। কিন্তু দিদি, অভিষেক আমাকে আপন করে নিয়েছেন।”
উল্লেখ্য বাবুলের তৃণমূল যোগের জল্পনা এক প্রকার শুরু হয়েছিল মমতার মন্তব্যের পরে পরেই। মোদি ক্যাবিনেট নতুন করে সাজানোর সময়েই ছেঁটে ফেলা হয়েছিল আসানসোলের বিজেপি সাংসদকে। তার পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “বাবুল সুপ্রিয় আমার স্নেহভাজন, তার মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়ার ফলে আমি দুঃখ পেয়েছি। তবে রাজনীতিতে এরকম হয়ে থাকে।” জল্পনার শুরু সেখান থেকেই।
তৃণমূলে এসে নিজের গান নিয়ে নিশ্চিত বাবুল, মমতা-সাক্ষাতের পর বললেন, দিদি যে গান গাইতে বলবেন, তাই গাইব

তার পরে বাবুলের পরবর্তী ক্রিয়া কলাপ, একে একে তৃণমূল থেকে মুকুল রায়কে ট্যুইটারে ফলো করা সব মিলিয়ে দুইয়ে দুইয়ে চার করা হচ্ছিল রাজনীতির অন্দরে। সেই জল্পনাকে সত্যি করেই তৃণমূলে এসেছেন বাবুল। বাবুলের তৃণমূল যোগ নিয়ে পক্ষে বপক্ষে উঠেছে বহু মন্তব্য। বঙ্গ রাজনীতির প্রায় সব নেতা মন্ত্রীরাই প্রকাশ করেছেন নিজেদের মতামত।
চর্চা ছিল হাজার সমালোচনা হবে জেনেও এই দলবদলের পর নতুন দলে এসে ঠিক কী কাজ করবেন তিনি। সম্ভাবনা রয়েছে তৃণমূলের হয়ে লড়ে লোকসভার সাংসদ হওয়ার। নবান্নতে মমতার সঙ্গে সাক্ষাতের পরে তাঁর আগামী দিনের কাজ কী হবে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, “দিদি, অভিষেক যা দায়িত্ব দেবেন তা পালন করব। মন খুলে গানও গাইতে পারব। দিদি যে গান গাইত বলবেন, সেই গান গাইব।” সঙ্গেই তিনি বলেন, ‘সুন্দর মিউজিক্যাল আলোচনা হয়েছে। আমাকে বলেছেন, পুজোর সময়ও গান করতে। আমার জন্য দিগন্ত খুলে গেল। আমি নিজের সর্বোচ্চটুকু দেব। অন্য শিবির থেকে এসে এত ভালোবাসা পেয়ে আমি মুগ্ধ।’



