নজরবন্দি ব্যুরোঃ জোড়া সাংসদ বাবুল ও সৌমিত্রর বাক্যবাণে বিদ্ধ দিলীপ, অস্বস্তিতে রাজ্য বিজেপি। মোদীর মন্ত্রীসভার রদবদলে নয়া ৪ মন্ত্রী পেয়েছে রাজ্য। যার মধ্যে নিশীথ প্রামানিকের স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রতিমন্ত্রী হওয়া উল্লেখযোগ্য। এদিকে এই রদবদলে মন্ত্রীত্ব হারিয়েছেন বাবুল সুপ্রিয় ও দেবশ্রী চৌধুরী। দ্বিতীয়জন এই ব্যাপারে এখনও মুখ না খুললেও বাবুল প্রথম থেকেই বিতর্ক বাঁধিয়ে চলেছেন নিজের ফেসবুক পোস্টে।
আরও পড়ুনঃ মহানগরে পেট্রোল প্রাইস ১০১ পার, পিছনেই দাঁড়িয়ে ডিজেল।


জোড়া সাংসদ বাবুল ও সৌমিত্রর বাক্যবাণে বিদ্ধ দিলীপ, অস্বস্তিতে রাজ্য বিজেপি। মোদীর মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়ার পরেই বাবুল ফেসবুকে লেখেন তাঁকে ইস্তফা দিতে বলা হয়েছে। পরে নিজের মন্তব্য থেকে সরে এসে তিনি বলেন “ইস্তফা দিতে বলা হয়েছিল কথাটা হয়ত এভাবে ব্যবহার করা ঠিক নয়।”
তিনি ভুল শুধরে নিলেও রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এই ব্যাপারে বলেন “বাবুলকে যদি বরখাস্ত করা হত, সেটা ভাল হত কি?” মুখে কিছু না বললেও এই মন্তব্য বাবুল ভালভাবে নেননি তা বলাই বাহুল্য। এদিকে বরাবর বিতর্কিত মন্তব্য করা দিলীপবাবু ফের এই নিয়ে সাংবাদিকদের বলেন “বাবুল সুপ্রিয় মন্ত্রী থাকাকালীন তো উনি (মুখ্যমন্ত্রী), ওনার লোকেরা গালমন্দ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর ধমক খেতে হত রোজ। এখন হাফ ছেড়ে বাঁচলেন। বাবুল সক্রিয় মন্ত্রী ছিলেন।”
জোড়া সাংসদ বাবুল ও সৌমিত্রর বাক্যবাণে বিদ্ধ দিলীপ, অস্বস্তিতে রাজ্য বিজেপি। বাবুল নাম করলেও নাম না করে একযোগে দিলীপ শুভেন্দুকে আক্রমন সৌমিত্রর।
এরপরেই দিলীপের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বাবুল বলেন “রাজ্য সভাপতি হিসেবে ‘মনের আনন্দে’ দিলীপদা অনেক কিছুই বলেন। আবারও বললেন, আমি শুনলাম। কিন্তু এই উক্তিটি কেন করলেন সেটা যদি এবারকার জন্য আমি ‘স্বজ্ঞানে’ বুঝেও না বুঝি তো ক্ষতি কি? এটাই আমার প্রতিক্রিয়া! আমার ‘হাঁফ ছেড়ে বাঁচাতে’ দিলীপদা আনন্দ পেয়েছেন এতেই আমি আনন্দিত ! উনি রাজ্য সভাপতি – সবার শ্রদ্ধার পাত্র! আমিও আন্তরিক শ্রদ্ধা জানালাম প্রিয় দিলীপদাকে!”


রাজ্য সভাপতির উপর বাবুলের ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসায় বেশ অস্বস্তিতে রাজ্য বিজেপি। জোড়া সাংসদ বাবুল ও সৌমিত্রর বাক্যবাণে বিদ্ধ দিলীপ, অস্বস্তিতে রাজ্য বিজেপি। একজন মন্ত্রিত্ব হারিয়ে মুখ খুলছেন। আরেকজন মন্ত্রীত্ব না পেয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন। তিনি বিষ্ণুপুরের সাংসদ তথা বিজেপির যুব সংগঠন যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি সৌমিত্র খাঁ। গত বুধবার সোশ্যাল মিডিয়াতেই সৌমিত্র জানিয়েছিলেন যে তিনি ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতির পদ ছেড়ে দিচ্ছেন। তার পর সন্ধ্যায় আবার তিনি জানালেন যে তিনি তাঁর পদত্যাগ ফিরিয়ে নিচ্ছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে।
জোড়া সাংসদ বাবুল ও সৌমিত্রর বাক্যবাণে বিদ্ধ দিলীপ এদিকে তাঁকে নিয়েও বিতর্কিত মন্তব্য করা দিলীপ বাবুর উদ্দেশ্যে নাম না করে ফেসবুক পোস্টে সৌমিত্রবাবু লেখেন “জল দুধের সাথে বন্ধুত্ব করল এবং নিজের স্বরূপ ত্যাগ করে দুধের সঙ্গে মিশে গেল।
এই দেখে দুধ জলকে বলল, ‘তুমি যেভাবে শুধু বন্ধুত্বের কারণে নিজের স্বরূপ ত্যাগ করে আমার সাথে মিশে গেলে, আমিও আমাদের বন্ধুত্ব পালন করব, আজ থেকে তুমিও আমার দামেই বিক্রি হবে। তাই দুধকে যখন ফোটানো হয়, তখন জল বলে, এবার আমার বন্ধুত্ব পালন করার পালা, তাই তোমার থেকে আগে আমি মৃত্যু বরণ করব!
তাই জল আগেই শেষ হয়ে যায়! যখন দুধ তার বন্ধু জলকে এভাবে মৃত্যু বরণ করতে দেখে, তখন দুধ উথলে উঠে আগুনকে নেভানোর চেষ্টা করে, কিন্তু যখন কিছু জলের ফোঁটা ছিটিয়ে তার বন্ধুকে উথলানো দুধের সাথে মিলিয়ে দেওয়া হয়, তখন দুধ আবার শান্ত হয়ে যায়! কিন্তু ..এক ফোঁটা অম্ল সেই জল এবং দুধের নিবিড় বন্ধুত্বকে আলাদা করে দিতে পারে!” নাম না করলেও তাঁর লক্ষ্য যে শুভেন্দু-দিলীপ তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
জোড়া সাংসদ বাবুল ও সৌমিত্রর বাক্যবাণে বিদ্ধ দিলীপ, একইসঙ্গে সৌমিত্র লিখেছেন “তৃণমূল থেকে অনেকেই বিজেপিতে এসে এমন ভাবে মিশে গিয়েছে যে বিজেপি ছাড়া নাকি তিনি বাঁচবেন না। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আমার সম্পর্ক অনেক ভালো। তাই আমি আশা করছি যে দলে থেকে রাজনীতি করতে পারব। রাজনীতিতে অভিমান থাকবেই। অভিমান ছাড়া রাজনীতি হয় না।” রাজ্য সভাপতির দিকে জোড়া সাংসদের বাক্যবাণে কার্যতই অস্বস্তিতে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল।







