নজরবন্দি ব্যুরোঃ মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীকে চাকরি থেকে আগেই বরখাস্ত করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। ইন্টারভিউতে না গিয়েই চাকরি পেয়েছিলেন তিনি। আর শিলিগুড়ির কোর্ট মোড়ের বাসিন্দা ববিতা সরকারকে বঞ্চনা করেই চাকরি পেয়েছিলেন অঙ্কিতা। এখন হাইকোর্টের নির্দেশে অঙ্কিতার জায়গায় ববিতা সরকারকে চাকরি দিয়েছে রাজ্য সরকার। তিনি যোগদানও করেছেন চাকরিতে। আর এবার পেলেন অঙ্কিতার প্রাপ্ত বেতনের টাকাও।
আরও পড়ুনঃ এসএসসি চাকরীপ্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন, হাল ধরতে মাঠে নামলেন অভিষেক
অঙ্কিতার স্থানে ববিতাকে চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। পাশাপশি অঙ্কিতার প্রাপ্ত বেতনের টাকাও ববিতাকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল হাইকোর্টের তরফে। ২ কিস্তিতে মন্ত্রী কন্যা অঙ্কিতা অধিকারীকে বেতনের টাকা ফেরতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী প্রথম কিস্তির টাকা জমা দিয়েছেন অঙ্কিতা। আর এবার সেই টাকা চলে গেল ববিতার অ্যাকাউন্টে।

প্রায় ৪৩ মাস ধরে অঙ্কিতা বেতন বাবদ যে টাকা পেয়েছেন তা ফেরৎ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আজ প্রথম কিস্তিতে ১ হাজার ৮৭ টাকা সুদ-সহ মোট ৭ লক্ষ ৯৮ হাজার ২৯৯ টাকা পেলেন ববিতা। দ্বিতীয় কিস্তির প্রায় ৭ লক্ষ টাকা ইতিমধ্যেই হাইকোর্টে জমা দিয়েছেন মন্ত্রীকন্যা অঙ্কিতা অধিকারী। দ্বিতীয় কিস্তির টাকা নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন বিচারপতি অভিজিত্ গঙ্গোপাধ্যায়।
প্রথম কিস্তিতে মিলল ৮ লাখ, মন্ত্রী কন্যা অঙ্কিতার বেতনের টাকা পেলেন ববিতা।

২০১৬ সালে SLST-র মাধ্যমে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে শিক্ষক নিয়োগ করে SSC। সে বছর শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় বসেছিলেন শিলিগুড়ির মেয়ে ববিতা সরকার। ওয়েটিং লিস্টে প্রথম ২০-তেই নাম ছিল তাঁর। এরপর স্রেফ দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ করা নয়, সেই তালিকায় একেবারেই শীর্ষে ছিল মন্ত্রীর পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতার নাম। এমনকী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক পদে চাকরিও পান তিনি। আর ববিতা চলে যান ওয়েটিং লিস্টে ২১ নম্বরে। কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন ববিতা। সেই মামলায় মন্ত্রী-কন্য়াকে চাকরি থেকে বরখাস্ত ও বেতন ফেরতের নির্দেশ দেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।



