মধ্যপ্রাচ্যে ইরান–ইজরায়েল সংঘাত ক্রমশ তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে একটি পুরনো ভবিষ্যদ্বাণী। ২০২৬ সালে নাকি শুরু হতে পারে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ—এমন সতর্কবার্তার কথা বলা হয়েছিল বুলগেরিয়ার রহস্যময় ভবিষ্যৎদ্রষ্টা বাবা ভাঙ্গার নামে প্রচলিত ভবিষ্যদ্বাণীতে। পশ্চিম এশিয়ায় বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে সেই ভবিষ্যদ্বাণীই আবার সোশ্যাল মিডিয়া এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে।
বাবা ভাঙ্গা, যার আসল নাম ভ্যানগেলিয়া প্যানদেভা দিমিত্রোভা, বহু বছর ধরেই নানা ভবিষ্যদ্বাণীর জন্য পরিচিত। তাঁর অনুসারীদের দাবি, বার্লিন প্রাচীরের পতন, আমেরিকায় ৯/১১ হামলা, রাজকুমারী ডায়ানার মৃত্যু, চেরনোবিল বিপর্যয় এমনকি করোনাভাইরাসের মতো ঘটনাও নাকি তিনি আগেই ইঙ্গিত করেছিলেন।
১৯৯৬ সালে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি নাকি ভবিষ্যতের জন্য একাধিক ভবিষ্যদ্বাণী করে গিয়েছিলেন। তার মধ্যে ২০২৬ সালকে ঘিরে কয়েকটি বিশেষ সতর্কবার্তা উল্লেখ করা হয়। সেই তালিকায় রয়েছে সম্ভাব্য বিশ্বযুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত উত্থান এবং ভিনগ্রহীদের সঙ্গে যোগাযোগের সম্ভাবনা।
বাবা ভাঙ্গার কথিত ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, ২০২৬ সালে একটি বড় ভূ-রাজনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে, যা প্রথমে বিশ্বের পূর্বাঞ্চলে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়বে। অনেকেই মনে করছেন, বর্তমান সময়ে পশ্চিম এশিয়া, ইউরোপ এবং এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে চলা সংঘাত সেই ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে মিল খুঁজে দিচ্ছে।
শুধু বাবা ভাঙ্গাই নন, ফরাসি ভবিষ্যৎদ্রষ্টা নস্ট্রাদামুসের ভবিষ্যদ্বাণীতেও নাকি একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ইঙ্গিত রয়েছে বলে দাবি করা হয়। তাঁর লেখায় সাত মাস ধরে চলা এক ভয়াবহ যুদ্ধের কথা উল্লেখ আছে বলে অনেকের ধারণা।
বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় ইরান, ইজরায়েল এবং আমেরিকার সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একই সঙ্গে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ, দক্ষিণ এশিয়া এবং পূর্ব এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাও বিশ্ব রাজনীতিকে অস্থির করে তুলেছে। ফলে অনেকের মনে প্রশ্ন উঠছে—এটাই কি বড় কোনও বৈশ্বিক সংঘাতের শুরু?
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণীগুলির কোনও নির্ভরযোগ্য নথি বা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাঁর নামে প্রচারিত অধিকাংশ ভবিষ্যদ্বাণীই পরোক্ষ বিবরণ বা পরবর্তী ব্যাখ্যার উপর নির্ভরশীল।
তবুও বিশ্বজুড়ে যখনই যুদ্ধ বা বড় কোনও সংকট তৈরি হয়, তখনই এই ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী নতুন করে মানুষের কৌতূহল ও আশঙ্কা উস্কে দেয়।



