বাংলার শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আজ, ২২ এপ্রিল ঐতিহাসিক রায় দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শাব্বার রশিদির বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ মোট ২৫ হাজার ৭৫৩ জনের চাকরি বাতিল করলেন। হাই কোর্টের এই রায়ের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করলেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি তথা তমলুকের বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন: ২৫ হাজারের চাকরি গেলে দেড় লাখ মানুষ সমস্যায় পড়বে, ‘হতে দেব না’- সাফ কথা মমতার
অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের কথায়, “আমার খুব খারাপ লাগছে যে আমরা একজন জোচ্চর মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনে বাস করছি। এবার প্রমাণ হয়ে গেল রাজ্য সরকার কত বড় দুর্নীতি করেছে। আমি মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানাই। জোচ্চুরিকে প্রশ্রয় দেন। লজ্জা থাকলে পদত্যাগ করুন। লোকসভা নির্বাচনে এবার থেকে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হোক।”

অন্যদিকে, হাই কোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে আগামীদিনে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা হবে, এমনটাই জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সাফ কথা, “এই রায় বেআইনি। আমরা এই রায় মানি না। আমি বিচারকদের কিছু বলছি না। কিন্তু রায়ের বিরুদ্ধে বলতেই পারি। সেটা আমার গণতান্ত্রিক অধিকার। বিজেপির কথায় এই রায় হয়েছে। একতরফা রায়। বিচারের বাণী আজ নীরবে নিভৃতে কাঁদে।”
সঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আগে একজন বিচারপতি ছিলেন না, বিজেপিতে যোগ দিলেন! এই মামলা তাঁর করা। আমরা আগামীদিনে সুপ্রিম কোর্টে যাব। চাকরিহারারা চিন্তা করবেন না। আমি পাশে আছি। বিজেপির বিচারালয় হয়ে গেছে। কাকের রায় কা-কা ই হয়। ২৫ হাজারের চাকরি গেলে দেড় লাখ মানুষ সমস্যায় পড়বে। এরা বলছে চার সপ্তাহের মধ্যে টাকা ফেরত দাও। এটা কারুর পক্ষে সম্ভব? চুরি করে টাকা ফেরত দেবে?”

ঠিক সেরকমই, কলকাতা হাই কোর্টের এই রায়কে একেবারেই স্বাগত জানাতে নারাজ সিদ্ধার্থ মজুমদার। তাঁর কথায়, ৫ হাজার অযোগ্যকে সামনে রেখে যেন ২৬ হাজার জনের চাকরি না বাতিল হয়। তিনি বলেছেন, “৩০০ পাতার রায়। এর মধ্যে অনেক খুঁটিনাটি পয়েন্টস আছে। সবটা জেনে মন্তব্য করব।”
২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ প্যানেলই বাতিল ঘোষণা করেছে আদালত। প্রায় ২৬ হাজার, যাদের চাকরি গেল, তাঁদের প্রাপ্ত বেতন ১২ শতাংশ সুদ সহ আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে ফেরত দেবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লোকসভা নির্বাচনের মধ্যে এই রায় নিঃসন্দেহে রাজ্যের কাছে এক বড় ধাক্কা।
‘জোচ্চর মুখ্যমন্ত্রী’, হাই কোর্টের রায়ের পর মমতাকে তীব্র আক্রমণ অভিজিতের, দাবি পদত্যাগের

বিচারপতি দেবাংশু বসাক জানান, এসএসসি সংক্রান্ত সব মামলাই গ্রহণযোগ্য। রায় ঘোষণা করে হাইকোর্ট এসএসসি মামলায় সব নিয়োগ বাতিল করার নির্দেশ দেয়। এরফলে ২৬ হাজার চাকরি বাতিল হয়েছে। এই মামলায় তদন্ত চালিয়ে যাবে সিবিআই। পাশাপাশি তদন্তকারী আধিকারিকরা সন্দেহভাজনদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে বলেও জানান বিচারপতি। ওএমআর শিট দ্রুত এসএসসির সার্ভারে আপলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সোমা দাস নামের এক চাকরিপ্রার্থীর চাকরি বহাল থাকবে, তিনি ক্যানসার আক্রান্ত, তাই মানবিকতার খাতিরে তাঁর চাকরি বাতিল করা হবে না। কিন্তু এবার প্রশ্ন তুলেছে দীর্ঘ দিন ধরেই চাকরির দাবিতে কলকাতার গান্ধীমূর্তির পাদদেশে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন এসএসসি চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, অযোগ্যদের চাকরি বাতিল হল, কিন্তু যোগ্য চাকরিপ্রাপকদের কী হবে? তাই আদালতের পরবর্তী নির্দেশের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা।



