নজরবন্দি ব্যুরোঃ করোনা আক্রান্তদের জন্য চালু হচ্ছে অডিও-ভিজুয়াল সিস্টেম, সংক্রমণ ঠেকাতে একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছে রাজ্য সরকার। এক মাস আগেও যেখানে দৈনিক সংক্রমণ কমে নেমে গিয়েছিল ২০০-র ঘরে এখন সেটাই পেরিয়ে গিয়েছে ৬ হাজারের গণ্ডি, আজ তো প্রায় সাত হাজার ছুঁই ছুঁই। কোন পথে ঠেকান সম্ভব হবে করোনা ভাইরাস কে তা নিয়ে শঙ্কিত রাজ্যের চিকিৎসক মহল। এই পরিস্থিতিতে করোনা মোকাবিলায় একাধিক সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন।
আরও পড়ুনঃ কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে এক টেবিলে BJP প্রার্থী, কমিশনে যাচ্ছে তৃণমূল


নবান্নে আজ স্বাস্থ্য আধিকারিক, হাসপাতাল-নার্সিংহোম কর্তাদের সাথে নজিরবিহীন করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন মুখ্যসচিব বলেন, করোনা আক্রান্তদের টেলি মেডিসিন দেওয়ার ব্যবস্থা চালু ছিল। যে রোগীদের ক্লিনিকে বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার সমস্যা রয়েছে তাঁরা বাড়ি বসেই চিকিত্সা পরিষেবা পাচ্ছিলেন। আর এবার একধাপ এগিয়ে আক্রান্ত রোগীদের জন্য অডিও-ভিজুয়াল সিস্টেমও চালু করার ব্যবস্থা নেবে সরকার। যার মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্সে অভিজ্ঞ স্বাস্থ্যকর্মীদের পরামর্শ পাবেন রোগীরা।
ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ দ্রুত ছড়িয়ে যাচ্ছে জনমানসে। আগে জানা গিয়েছিলো একের থেকে এক সংক্রমণ ছড়াচ্ছিল এখন দেখতে পাওয়া যাচ্ছে তা একের থেকে অগণিত ছড়াচ্ছে। অর্থাৎ গোষ্ঠী সংক্রমণ। চিকিৎসকরা বলছেন এভাবে সংক্রমণ ছড়াতে থাকলে হাসপাতালে বেড পাওয়াই মুশকিল হবে। এদিকে রাজ্যের সব জেলাতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমন ধরা পড়েছে ব্যাপকভাবে।
এদিকে আজ রাজ্যজুড়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, ৬ হাজার ৯১০ জন। যা নিয়ে রাজ্যে সার্বিক ভাবে মোট আক্রান্ত সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লক্ষ ৪৩ হাজার ৭৯৫ জন। এই বিপুল আক্রান্তের মধ্যে এখন চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪১ হাজার ৪৭ জন। এদিন রাজ্যে করোনা মৃত্যুর সংখ্যা ২৬। যা নিয়ে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১০ হাজার ৫০৬ জনের। কমছে সুস্থতার হার, গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২ হাজার ৮১৮ জন। যা সংক্রমণের গতির অর্ধেকেরও কম।


আজকের ২ হাজার ৮১৮ জন কে নিয়ে এখন পর্যন্ত রাজ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৫ লক্ষ ৯২ হাজার ২৪২ জন। এদিনের বুলেটিনে রাজ্য সরকার জানিয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসের টেস্ট হয়েছে মোট ৪০ হাজার ১৫৩ টি। এখন পর্যন্ত রাজ্যে মোট টেস্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৭ লক্ষ ১৫ হাজার ১১৫ টি। ১০০ টি টেস্ট পিছু রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ৬.৬৩ শতাংশ। রাজ্য জুড়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৯১.৯৯ শতাংশ মানুষ। যা কয়েকদিন আগেও ছিল প্রায় ৯৮ শতাংশ।







