সিবিআই জেরা শেষে অতীন ঘোষের স্পষ্ট বার্তা, “আমার বিরুদ্ধে কেউ কখনও আঙুল তুলতে পারেনি”

আরজি কর দুর্নীতি তদন্তে নাম জড়াল কলকাতা পুরনিগমের ডেপুটি মেয়রের, তৃণমূল শিবিরে চাঞ্চল্য

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কলকাতা পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র তথা তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক অতীন ঘোষের বাড়িতে হানা দিল সিবিআই। শনিবার সকাল থেকেই উত্তর কলকাতার ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ে খবর। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের দুর্নীতি মামলায় তদন্ত চালাচ্ছে। সেই সূত্রেই প্রায় আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জেরা করা হয় অতীন ঘোষকে।

তদন্তকারীদের প্রশ্নের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অতীন ঘোষ স্পষ্ট জানিয়ে দেন— তিনি নির্দোষ। তাঁর দাবি, “আমার বিরুদ্ধে কেউ কখনও আঙুল তুলতে পারেনি। ১৫ বছর ধরে কলকাতা পুরনিগমের স্বাস্থ্য দপ্তর সামলাচ্ছি। আমার রাজনৈতিক চরিত্র কী, তা রাজ্যের মানুষ জানেন।”

সিবিআইয়ের জেরা নিয়ে অতীনের ব্যাখ্যা

সিবিআইয়ের তরফে তাঁকে আরজি কর হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য হিসাবে ডাকা হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে অতীন ঘোষ বলেন, “আমি সাক্ষী হিসেবেই নোটিস পেয়েছি। কোনও জিজ্ঞাসাবাদ হয়নি, ওরা কেবল কিছু প্রশ্নমালা তৈরি করেছিল। আমি সেগুলির উত্তর দিয়েছি।”

তিনি আরও যোগ করেন, “লোকাল বিধায়ক হিসাবে পদাধিকার বলে আমি রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য ছিলাম। এখনও সরকার আমাকে সদস্য করেছে। ফলে প্রিন্সিপাল, এমএসভিপি-র বৈঠকেও যাই। কিন্তু দুর্নীতির সঙ্গে আমার কোনও যোগ নেই।”

রাজনৈতিক মহলে চাপাউতোর

অতীনের বাড়িতে সিবিআই হানা দেওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসতেই তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী শিবিরে চাপাউতোর শুরু হয়। বিজেপি শিবির দাবি করে, রাজ্যের শাসকদল দুর্নীতি ঢাকতে চাইছে। অন্যদিকে তৃণমূল নেতাদের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার হচ্ছে।

অতীন ঘোষ নিজেও ইঙ্গিত দেন সেই প্রসঙ্গেই। তাঁর কথায়, “ওদের যে কোনও উদ্দেশ্যই থাকুক, আমি তাতে কিছু মনে করি না। কারণ আমি জানি এতে আমার কোনও ভূমিকা নেই।”

দীর্ঘদিন স্বাস্থ্য দপ্তরের দায়িত্বে

২০০৯ সাল থেকে কলকাতা পুরনিগমের বোর্ডে স্বাস্থ্য দপ্তরের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন অতীন ঘোষ। ডেঙ্গি মোকাবিলা থেকে শুরু করে কোভিড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ— সব ক্ষেত্রেই তিনি সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন বলে দাবি পুরনিগম সূত্রে। ফলে তাঁর বাড়িতে সিবিআইয়ের হানা রাজনৈতিক দিক থেকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরজি কর দুর্নীতি মামলা কী?

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে সরঞ্জাম কেনা, নিয়োগ প্রক্রিয়া ও তহবিল ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। সিবিআই গত কয়েক মাস ধরে এই মামলায় একাধিক ডাক্তার, প্রশাসনিক আধিকারিক ও রাজনৈতিক নেতাদের জেরা করেছে। সম্প্রতি বেশ কয়েকজনকে তলব করার পর এবার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষের বাড়িতে পৌঁছল তদন্তকারীরা।

তদন্তে কোন পর্যায়ে নতুন তথ্য উঠে এসেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে কেন্দ্রীয় সংস্থার সক্রিয়তা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়িয়েছে।

বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া

বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, রাজ্যের শাসকদল স্বাস্থ্য থেকে শিক্ষা— সর্বত্র দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। অতীন ঘোষের নাম তদন্তে উঠে আসা, সেই অভিযোগেরই প্রমাণ। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের মতে, বিরোধীদের অভিযোগ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সিবিআইকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে।

অতীনের আত্মবিশ্বাসী সুর

জেরার পর একাধিক চ্যানেলের সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অতীন ঘোষ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই বলেন, “আমার বাড়িতে সিবিআই এসেছে বলে আমি কোনও ক্ষেদ করি না। কারণ আমার রাজনৈতিক চরিত্রের মূল্যায়ন জনগণ করেছে। আমার বিরুদ্ধে কেউ আঙুল তুলতে পারেনি।” তিনি আরও জানান, কোনও বেআইনি কাজের সঙ্গে তাঁর নাম যুক্ত হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। বরং ষড়যন্ত্র করেই রাজনৈতিকভাবে তাঁকে আঘাত করার চেষ্টা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আসন্ন নির্বাচনের আগে এই ধরনের তদন্ত রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। কলকাতার পুরনিগমে বহু বছর ধরে প্রভাবশালী ভূমিকা রাখা অতীন ঘোষের নাম যদি তদন্তে ঘোরাফেরা করে, তবে তা তৃণমূলের জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে। তবে সিবিআই শেষ পর্যন্ত তাঁকে শুধু সাক্ষী হিসেবেই রাখে, নাকি অন্য কোনও পদক্ষেপ করে, সেটাই এখন দেখার।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর