বিশ্বের মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মধ্যে নতুন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে গ্রহাণু ২০২৪ ওয়াইআর৪। এই গ্রহাণু পৃথিবীর দিকে দ্রুত গতিতে ছুটে আসছে, এবং তার আঘাতে পৃথিবী তছনছ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এর নাম দিয়েছেন ‘শহরের খুনি’ বা ‘সিটি কিলার’। সম্প্রতি মহাকাশ গবেষকরা নিশ্চিত করেছেন যে, গ্রহাণুটি পৃথিবীর আকাশে আছড়ে পড়লে একাধিক দেশ, বিশেষ করে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।
গ্রহাণুর আঘাতে সবচেয়ে বড় বিপদের আশঙ্কা রয়েছে, বিশেষত ২০২৪ ওয়াইআর৪ যদি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এই গ্রহাণুর আঘাতে ৮০ লাখ টন TNT (ট্রাই নাইট্রো টলুইন) শক্তির সমান বিস্ফোরণ হতে পারে, যা পৃথিবীতে বিরাট ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বিশাল ক্ষতি হতে পারে।


এটি মহাকাশ গবেষকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ তারা এই গ্রহাণুর গতিপথ ও কক্ষপথ সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে পারছেন না। তবে, বর্তমানে এটি পৃথিবীকে প্রায় ২ শতাংশ সম্ভাবনাতে আঘাত করতে পারে, যদিও ৯৮ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে যে এটি পৃথিবীর কাছ দিয়ে চলে যাবে।
বিশ্বের বিভিন্ন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা যেমন নাসা, রসকসমস, সিএনএসএ এবং ইসরো এই গ্রহাণুর গতিবিধি নিয়ে নজর রাখছে। ২০২৪ ওয়াইআর৪ এর গতি এবং আকারের উপর নির্ভর করবে এর পরিণতি। বিজ্ঞানীরা আরও বলছেন, ২০২৮ সালের মধ্যে যদি এই গ্রহাণু মহাশূন্যে হারিয়ে যায়, তবে তার গতিপথ পুনরায় নির্ধারণ করা অনেক কঠিন হয়ে পড়বে।
বিশেষজ্ঞরা আরো জানাচ্ছেন, এই গ্রহাণুর ক্ষতিকর প্রভাব বিশ্বের উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়া, আরব সাগর, আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে পড়তে পারে। তার মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ইথিওপিয়া, সুদান, নাইজিরিয়া, ভেনেজুয়েলা, কলম্বিয়া এবং ইকুয়েডর রয়েছে।


গ্রহাণুর এই বিপদের মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক মহাকাশ সংস্থাগুলিকে একযোগে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। তবে, গ্রহাণুর আঘাত ঠেকানোর জন্য এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পরিকল্পনা তৈরি করা হয়নি।







