দিল্লি বিস্ফোরণকে সমর্থন করে পোস্ট, হিমন্তের নির্দেশে গ্রেপ্তার ২১ সন্দেহভাজন!

সোশ্যাল মিডিয়ায় সন্ত্রাসের প্রশংসা—অসম পুলিশের অভিযানে ধরা পড়ল ২১ অভিযুক্ত

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দিল্লির লালকেল্লার সামনে ভয়াবহ দিল্লি বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল গোটা দেশ। মাত্র কয়েক সেকেন্ডে প্রাণ যায় ১৩ জনের, আহত হন বহু মানুষ। দেশজুড়ে যেখানে শোক ও ক্ষোভের ঢেউ, ঠিক সেই সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সন্ত্রাসী হামলাকে প্রকাশ্যে সমর্থন করতে শুরু করে একদল ব্যক্তি। আর সেই দেশবিরোধী পোস্টের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল অসম সরকার।

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা রবিবার জানান, সন্ত্রাসের প্রশংসা ও সহমর্মিতা প্রকাশকারী মোট ২১ সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে অসম পুলিশ। এর আগে বৃহস্পতিবার পুলিশ জানিয়েছিল, ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নতুন তথ্য অনুযায়ী সংখ্যাটি আরও বেড়েছে।
পুলিশের বক্তব্য অত্যন্ত স্পষ্ট—যারা দিল্লি বিস্ফোরণকে সমর্থন করেছে, তাদের কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না।

অসম পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন মন্তব্য করেছেন যা সরাসরি দেশবিরোধী এবং সন্ত্রাসবাদকে উসকানি দেয়। দিল্লির ভয়াবহ হামলার পরে এমন পোস্ট নজরে আসতেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় শুরু হয় বিশেষ অভিযান। দারাং, গোয়ালপাড়া, নলবাড়ি, চিরঙ্গা, কামরূপ, বোঙ্গাইগাঁও, হাইলাকান্দি, লখিমপুর, বারপেটা, হোজাই, দক্ষিণ সালমারা, বাজালি এবং ধুবরি থেকে একে একে ধরা হয় অভিযুক্তদের।

দিল্লি বিস্ফোরণকে সমর্থন করে পোস্ট, হিমন্তের নির্দেশে গ্রেপ্তার ২১ সন্দেহভাজন!

অসম পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, এসব পোস্ট শুধু আইন বিরোধী নয়, জাতীয় নিরাপত্তাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে। তাই সন্ত্রাসকে সমর্থনকারী এমন মন্তব্য কোনও অবস্থাতেই সহ্য করা হবে না। বিশেষত যখন দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্তে NIA দেশজুড়ে অভিযান চালাচ্ছে, তখন এই ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে অত্যন্ত গুরুতর মনে করা হচ্ছে।

দিল্লি বিস্ফোরণকে সমর্থন করে পোস্ট, হিমন্তের নির্দেশে গ্রেপ্তার ২১ সন্দেহভাজন!
দিল্লি বিস্ফোরণকে সমর্থন করে পোস্ট, হিমন্তের নির্দেশে গ্রেপ্তার ২১ সন্দেহভাজন!

গত সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটে লালকেল্লার কাছে মেট্রো স্টেশনের সামনে ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। তদন্তে জানা যায়, চিকিৎসক উমর বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে এসে বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে NIA তদন্তভার গ্রহণ করে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেশ কয়েকজন চিকিৎসকসহ একাধিক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে।
এখন তদন্তকারীরা নজর দিয়েছেন ফরিদাবাদের Al-Falah University-র দিকে, যেখান থেকে ‘হোয়াইট কলার টেরর’-এর ইঙ্গিত মিলছে বলেও সূত্রের দাবি।

অসমে ধৃত ২১ জনের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং তাদের অন্যান্য ডিজিটাল কর্মকাণ্ড এখন খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা দেখাচ্ছে যে অনলাইনে সন্ত্রাসবাদী মতাদর্শের প্রসার কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। শুধু সক্রিয় জঙ্গি নয়, নেটমাধ্যমে সমর্থনকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেওয়া ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এক বিবৃতিতে বলেন, “সন্ত্রাসের সমর্থন কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। দেশের বিরুদ্ধে কথা বললে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

এই গ্রেপ্তারি শুধু একটি আইনগত পদক্ষেপ নয়, বরং বার্তা—দেশের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও রকম আপস নয়। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে অসম সরকারও দেখিয়ে দিল, সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করা মানেই আইনের গ্রেপ্তার অনিবার্য।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত