সাত দশকের সুরযাত্রার অবসান। ভারতীয় সংগীতজগত এক অমূল্য কণ্ঠস্বরকে চিরবিদায় জানাল রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়। মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে সম্পন্ন হল কিংবদন্তি গায়িকা Asha Bhosle-র শেষকৃত্য—যেখানে আবেগ, শ্রদ্ধা আর স্মৃতির মিশেলে যেন থমকে গিয়েছিল সময়।
৯২ বছর বয়সে রবিবার প্রয়াত হন আশা ভোঁসলে। বুকে সংক্রমণজনিত সমস্যায় তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল মুম্বইয়ের ব্রীচ ক্যান্ডি হাসপাতালে। চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা সত্ত্বেও শেষরক্ষা হয়নি। সোমবার তাঁর মরদেহ শেষ শ্রদ্ধার জন্য রাখা হয়, পরে শিবাজি পার্কে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। মুখাগ্নি করেন তাঁর ছেলে আনন্দ।
শেষ বিদায়ে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। অভিনেতা Vicky Kaushal, গায়ক Shaan, মহারাষ্ট্রের রাজনীতিক Devendra Fadnavis, Eknath Shinde, শিল্পী Anup Jalota, অভিনেতা Aamir Khan, কিংবদন্তি ক্রিকেটার Sachin Tendulkar এবং Vivek Oberoi-সহ বহু মানুষ তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
একটা যুগের অবসান—এই কথাটাই বারবার ফিরে এসেছে তাঁর বিদায়ে। ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে’, ‘পিয়া তু আব তো আজা’, ‘ইয়ে মেরা দিল’, ‘মনিকা ও মাই ডার্লিং’—অসংখ্য কালজয়ী গানে তিনি নিজেকে অমর করে রেখেছেন। তাঁর কণ্ঠ ছুঁয়ে যাওয়া প্রতিটি সুর যেন আজও জীবন্ত।
১৯৩৩ সালে জন্ম নেওয়া আশা ভোঁসলে ছিলেন পণ্ডিত Deenanath Mangeshkar-এর কন্যা। ছোট বয়সেই বাবার মৃত্যু এবং পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়ার কঠিন সময় পেরিয়ে তিনি পৌঁছে গিয়েছিলেন সাফল্যের শিখরে। মাত্র ১০ বছর বয়সে প্লেব্যাকের জগতে প্রবেশ, তারপর একের পর এক সাফল্যের গল্প।
তাঁর জীবন কেবল একজন শিল্পীর সাফল্যের গল্প নয়—এটি সংগ্রাম, প্রতিভা আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির ইতিহাস। আর সেই ইতিহাসই আজ ভারতের সংগীতজগতে এক চিরস্থায়ী উত্তরাধিকার হয়ে রইল।



