গানে তিনি ‘সরস্বতী’, আর অর্থে যেন ‘লক্ষ্মী’—কয়েক দশকের অনবদ্য কেরিয়ারে সঙ্গীতের পাশাপাশি এক বিস্ময়কর আর্থিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন Asha Bhosle। শুধু গানেই নয়, ব্যবসা ও বিনিয়োগেও তাঁর বিচক্ষণতা তাঁকে আলাদা উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, আশা ভোঁসলের মোট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকার মধ্যে। এই বিপুল সম্পদের মূল ভিত্তি তাঁর দীর্ঘ সঙ্গীতজীবন—হাজার হাজার গানে কণ্ঠ দেওয়া, দেশ-বিদেশে লাইভ পারফরম্যান্স এবং আন্তর্জাতিক শো-র মাধ্যমে তিনি তৈরি করেছিলেন একাধিক আয়ের উৎস।
তবে শুধু সঙ্গীতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি তিনি। রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগেও তাঁর ছিল উল্লেখযোগ্য দখল। মুম্বই, পুনে-সহ একাধিক শহরে তাঁর বিলাসবহুল সম্পত্তির মূল্য প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কোটি টাকার কাছাকাছি বলে জানা যায়। অভিজাত আবাসন ও প্রিমিয়াম অ্যাপার্টমেন্ট—সব মিলিয়ে তাঁর সম্পত্তির তালিকা ছিল যথেষ্ট সমৃদ্ধ।
ব্যবসায়ী হিসেবেও নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছিলেন আশা। রান্নার প্রতি তাঁর ভালোবাসা থেকেই জন্ম নেয় তাঁর রেস্তোরাঁ চেইন ‘Asha’s’। ২০০২ সালে দুবাইয়ে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ দ্রুত আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডে পরিণত হয়। দুবাই, কুয়েত, বাহরিন থেকে শুরু করে ব্রিটেনের বার্মিংহাম ও ম্যানচেস্টার—বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে তাঁর এই রেস্তোরাঁ।
সঙ্গীতের পাশাপাশি বিশ্বের নানা দেশে নিয়মিত লাইভ পারফরম্যান্সও ছিল তাঁর আয়ের বড় উৎস। আমেরিকা, কানাডা, দুবাই কিংবা ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে তাঁর অনুষ্ঠান সবসময়ই দর্শক টেনেছে। বয়স বাড়লেও কাজের প্রতি তাঁর একাগ্রতা কখনও কমেনি—বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আরও দৃঢ় হয়েছে।
সব মিলিয়ে, আশা ভোঁসলের জীবন শুধু সঙ্গীতের ইতিহাস নয়—এটি এক সফল শিল্পীর পাশাপাশি একজন দূরদর্শী উদ্যোক্তারও অনুপ্রেরণামূলক গল্প।



