নজরবন্দি ব্যুরোঃ করোনা পরিস্থিতিকে ঢাল করে আপাতত CID-র দফতরে হাজিরা এড়ালেন অর্জুন। একসময় তিনি ছিলেন ভাতপাড়া তথা ব্যারাকপুরের একচ্ছত্র অধিপতি। ২০১০ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত তৃণমূল পরিচালিত ভাটপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান থেকে ২০১৬ সালের নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটেই ভাটপাড়ার বিধায়ক হয়ে স্বপ্নের উত্থান ঘটে অর্জুন সিং-এর। এরপরেই ফুল বদলে বিজেপির হয়ে ২০১৯ সালে লোকসভায় প্রার্থী হন তিনি। জিতেও যান। কার্যত ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল জুড়ে একসময় যে দাপট তৈরি করেছিলেন তা ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পরে পরেই শীর্ষে উঠেছিল।
আরও পড়ুনঃ ইয়াসের জেরে হাইকোর্টে স্থগিত নারদ মামলার শুনানি, শীর্ষ আদালতে শুনানি আজ।


কিন্তু তারপর থেকেই দাঙ্গা- হিংসা চরমে ওঠে। ধীরে ধীরে নিজের শক্তি হারাতে থাকে দাপুটে নেতা। আর সদ্য শেষ হওয়া নির্বাচনে প্রবল তৃণমূল ঝড়ে কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েন তিনি ও তাঁর দল। তারপর থেকেই সেই দাপট অনেকটাই স্তিমিত। আর এসবের মধ্যেই ভাতপাড়া পৌরসভার টেন্ডার দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা CID-র দফতর ভবানীপুরে ডাক পড়ে তাঁর। এদিকে করোনা পরিস্থিতির অজুহাত দিয়ে আপাতত সেই পথ মাড়ালেনই না অর্জুন। প্রসঙ্গত উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ব্যারাকপুর মহকুমার ভাটপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে অর্জুনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার সেই দুর্নীতি মামলায় পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও পরে এই মামলার দায়িত্ব পায় সিআইডি। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিআইডি’র আধিকারিকরা ভাটপাড়া পুরসভার মেঘনা মোড়ের মজদুর ভবনে অর্জুন সিংয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন। তবে সেই সময়ে অর্জুন সিং বাড়িতে ছিলেন না।
বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেও অর্জুন বাড়িতে না আসায় সিআইডি-র তদন্তকারী দল তাঁর বাড়িতেই নোটিস লাগিয়ে যায়। সেই নোটিসেই দুর্নীতির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অর্জুনকে ডাকার পাশাপাশি তাঁর ভাইপো সৌরভ সিংকেও ডেকে পাঠানো হয়। এদিনই দুইজনকে সিআইডির কার্যালয় ভবানীভবনে হাজিরা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে করোনাকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে অনুপস্থিত থাকলেন দুজনেই। আজ এই মর্মে ভবানীপুরে CID-র দফতরে মেল করে অনুপস্থিতির কথা জানান সাংসদ।
তবে তিনি জানিয়েছেন ভার্চুয়ালি জিজ্ঞাসাবঅ্যাড করলে তিনি আছেন। প্রসঙ্গত বছর তিনেক আগে অবৈধভাবে ভাটপাড়া-নৈহাটি সমবায় ব্যাঙ্কের প্রায় ২০ কোটি টাকা ঋণ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ব্যাঙ্কেরই পরিচালন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। তার জেরেই শুরু হয় তদন্ত। এরপর জানা যায়, ২০১৮র অক্টোবরে দু-দফায় কাগজে কলমে সবমিলিয়ে ১৩ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল ভাটপাড়া পুরসভার এক ঠিকাদারকে। কিন্তু সেই টাকা যায় অন্য অ্যাকাউন্টে। এই দুর্নীতিতে নাম জড়ায় ব্যাঙ্কের তত্কালীন সিইও চন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যেরও। ঘটনায় এক আধিকারিক-সহ ওই ঠিকাদারকেও গ্রেফতার করা হয়।


করোনা পরিস্থিতিকে ঢাল করে আপাতত CID-র দফতরে হাজিরা এড়ালেন অর্জুন। পরে তাতে অর্জুন সিংয়ের নাম ভেসে ওঠে। তাঁর বিরুদ্ধে ১৩ কোটি টাকা বেনামি অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফারের অভিযোগ ওঠে। আর এই টাকা ছিল আসলে ভাটপাড়া চেয়ারম্যানের রিলিফ ফান্ডের। এই ঘটনায় তল্লাশিও চালানো হয় সাংসদের বাড়িতে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন অর্জুন সিংহ। এই ঘটনায় পরবর্তী কি পদক্ষেপ CID নেয় সেদিকে নজর থাকবে সবার।







