দুর্গাপুর গণধর্ষণ কাণ্ডে অভিষেকের তোপ: ‘হিমঘরে অপরাজিতা বিল’, দায় মোদি সরকারের!

দুর্গাপুরের নৃশংস গণধর্ষণকে ঘিরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুললেন, কেন এখনও আইনে পরিণত হয়নি অপরাজিতা বিল? নারী সুরক্ষায় নীরব কেন্দ্রকে আক্রমণ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতির।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দুর্গাপুর গণধর্ষণ কাণ্ডে ফের সরগরম রাজ্য রাজনীতি। ওড়িশার জলেশ্বরের এক মেডিক্যাল ছাত্রীকে নির্দয়ভাবে গণধর্ষণের ঘটনার পর, নারী সুরক্ষা আইন নিয়ে কেন্দ্রকে একহাত নিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে তিনি বলেন, “এই ধরনের নৃশংস অপরাধের জন্য প্রয়োজন কঠোর আইন, কিন্তু মোদি সরকার সেই দায়িত্ব নিতে নারাজ। অপরাজিতা বিল বিধানসভায় পাস হয়েছে এক বছরেরও বেশি সময়, তবুও তা ‘হিমঘরে’ পড়ে রয়েছে।”

এই বিলের নামকরণ হয়েছে মৃত তৃণমূল বিধায়ক অপরাজিতা ঘোষের নামে, যিনি নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন। রাজ্য সরকার গত বছর West Bengal State Women and Children (Protection and Safety) Bill পাস করে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্তরে তা আটকে রয়েছে দীর্ঘদিন। অভিষেকের দাবি, “এটা কি শুধুই প্রশাসনিক দেরি, নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অবহেলা?”

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, বিজেপি মুখে নারী সুরক্ষা নিয়ে বড় বড় কথা বললেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। তাঁর ভাষায়, “সংসদে নারী সম্মান, ‘নारी শক্তি’—এই শব্দগুলি উচ্চারিত হয়, কিন্তু যখন পশ্চিমবঙ্গের সরকার নারীদের সুরক্ষার জন্য কঠোর আইন আনার উদ্যোগ নেয়, তখন সেই বিলকে আটকে রাখা হয়। এটা কি কেন্দ্রের দ্বিচারিতা নয়?”

দুর্গাপুরের ঘটনার পর প্রশাসনও চাপে। অভিযোগ, শুক্রবার রাতে দ্বিতীয় বর্ষের এক ডাক্তারি পড়ুয়া বন্ধুর সঙ্গে খাবার খেতে বেরিয়েছিলেন। এরপর একদল যুবক তাঁকে জঙ্গলে টেনে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। এখনও পর্যন্ত কোনও মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা যায়নি। তবে নির্যাতিতার সহপাঠীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

রাজ্য পুলিশ জানিয়েছে, “এই ঘটনায় আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। নারীর নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস হবে না।” পাশাপাশি, সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়ানোরও অনুরোধ জানিয়েছে তারা।

তৃণমূল শিবিরের বক্তব্য, এই নৃশংস ঘটনাই প্রমাণ করছে অপরাজিতা বিলের প্রয়োজনীয়তা কতটা জরুরি। এক সিনিয়র তৃণমূল নেতা বলেন, “যদি এই বিল আইনে পরিণত হতো, তবে অপরাধীদের শাস্তি আরও দ্রুত ও কঠোরভাবে দেওয়া যেত।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্য কেবল কেন্দ্রবিরোধী আক্রমণ নয়, বরং নারী সুরক্ষাকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল। তৃণমূলের তরফে ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, বিলের অনুমোদন নিয়ে রাজ্য সরকার আবারও রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দিতে পারে।

বিজেপির প্রতিক্রিয়া এসেছে পাল্টা সুরে। রাজ্য বিজেপির এক মুখপাত্র বলেছেন, “তৃণমূলের কাছে আইন নয়, রাজনীতি গুরুত্বপূর্ণ। নারী সুরক্ষা নিয়ে তাদের কথায় আর কাজে আকাশ-পাতাল ফারাক।”

তবে অভিষেকের বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি বিষয়টিকে শুধুই রাজনীতি নয়, সামাজিক দায় হিসেবেও দেখছেন। তাঁর পোস্টে লেখা ছিল, “যতদিন না প্রতিটি নারী নিরাপদ, ততদিন আমাদের লড়াই চলবে।”

অপরাজিতা বিলের বাস্তবায়ন নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত এখন নতুন করে আলোচনায়। একদিকে দুর্গাপুরের ভয়াবহ ঘটনা, অন্যদিকে নারী সুরক্ষা আইনের স্থবিরতা—দুটোই মিলে রাজ্য রাজনীতিতে ফের উত্তাপ ছড়িয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর