নজরবন্দি ব্যুরোঃ বাড়ির দোতালা থেকে গোটা বীরভূম দেখছেন ‘নজরবন্দি’ অনুব্রত! ভোটের আগেই কমিশন-বাহিনীকে একযোগে গতকাল গোটা সকাল বীরভূম ঘুরিয়েছেন তিনি। আর সেই নিয়ে হুলুস্থুল কম পড়েনি গোটা বীরভূম জুড়ে। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ নিজের বাড়ি থেকে গাড়ি নিয়ে বের হন অনুব্রত। তাঁর পিছনে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কমিশনের গাড়িও যায়। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই রাস্তার মধ্যে অনুব্রতর গাড়ি গতি বাড়িয়ে বেরিয়ে যায় , ঠিক সেই সময়ে রাস্তায় অন্য গাড়ি এসে পড়ায় আটকে যায় কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়ি। গোটা বীরভূমের বিভিন্ন এলাকায় কোন খোঁজ না পেয়ে একাধিক থানায় খবর দেওয়া হয়েছিলো বলেও খবর।
আরও পড়ুনঃ ভোটের বারবেলায় উত্তপ্ত মানিকতলা, বিক্ষোভ BJP প্রার্থী কল্যাণ চৌবেকে ঘিরে
তার পর এক সকাল বোল্পুরের গোলকধাঁধায় ঘুরে বহু কষ্ট করে, কার্যত গোটা বোলপুর বীরভূম চক্কর কেটে কেষ্ট লাভ করেছিলো কমিশন। দুপুর ২টো নাগাদ অনুব্রতর খোঁজ মিলেছিলো তারাপীঠ মন্দিরে। আর তার পরেই ফের তাঁকে নজরবন্দি করেছিলো কমিশন। কমিশন যখন হন্যে হয়ে খুঁজছিলো অনুব্রতকে, তখন তিনি মিটিং করছিলেন সাঁইথিয়ায় দলীয় অফিসে। গিয়েছিলেন তারাপীঠ মন্দিরে পুজো দিতে। তারপর আর কনো রিস্ক নেয়নি নির্বাচন কমিশন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে দেওয়া হয়েছে দ্বিতীয় নোটিস। আগামীকাল পর্যন্ত কড়া ভাবে নজরবন্দি থাকতে হবে তাঁকে।
নজরবন্দির কথা শুনেই কয়েকদিন আগেই কেষ্ট দার মন্তব্য ছিলো ‘‘নজরবন্দি মানে কী? আমি যেখানেই যাব সেখানেই এক জন ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে আর কয়েক জন সিআরপিএফ থাকবে। এই তো নজরবন্দি। আমাকে তো গৃহবন্দি করেনি! তিনি আরও বলেছিলেন, ‘‘প্রত্যেক বার করে, এ বারও করেছে। আমি যখন বাড়ি থেকে বেরোব, পার্টি অফিসে যাব, আমার সঙ্গে সঙ্গে আসবে ক্ষতি কী আছে? খেলা কি বন্ধ হয় ? ঘরের ভিতরে চার জনে মিলে খেলা হয় না? খেলব মনে করলেই খেলা হবে।’’
বাড়ির দোতালা থেকে গোটা বীরভূম দেখছেন ‘নজরবন্দি’ অনুব্রত! গতকালের ঘটনার পর সকলের চিন্তা ছিলোই, গতকাল কমিশনকে চরকি কাটানোর পর আজ আবার কী করবেন তিনি, তবে অনুব্রত জানিয়েছিলেন সকাল সকাল ভোট দিয়ে পার্টি অফিসেই থাকবেন। যদিও সূত্রের খবর এখনো ভোট দেননি কেষ্ট দা। অন্য প্রতিবার মেয়ে সুকন্যার সঙ্গে ভোট দিতে যান তিনি, বীরভূমের জেলার এক নেতার কথায়, সকালে উঠে ট্রেড মিলে হেঁটে, মহাদেবের পূজো করে তৈরি হচ্ছেন তিনি, এবার যাবেন ভোট দিতে। রয়েছেন বাড়ির দোতালায়। সেখান থেকেই গোটা বীরভুমের ওপর নজর রাখছেন তিনি।



