নজরবন্দি ব্যুরো:সাঙ্কেতিক অক্ষরে ভরা ডাইরির পাতা। কোন পাতায় লেখা ‘সিএইচ’, কোথাও ‘ডিআই’।পুর নিয়োগ মামলায় উদ্ধার হওয়া নথির পাতায় পাতায় এমন শব্দবন্ধই দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ইডি আধিকারিকদের। সেই সব সাঙ্কেতিক অক্ষরের রহস্যভেদ করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।একাধিক কোড ডিকোড করতেই রাজ্যের এক মন্ত্রীর নাম সামনে আসে।ইডি সূত্রে জানা যায়, এই সাঙ্কেতিক শব্দের আড়ালে এক প্রাক্তন মন্ত্রীর নাম লুকিয়ে রয়েছে। বর্তমান ও প্রাক্তন দুই মন্ত্রিই আপাতত কেন্দ্রীয় সংস্থার নজরে।
নথি অনুযায়ী জানা যাচ্ছে , এক মন্ত্রী নিজেই পুরসভায় নিয়োগের জন্য একাধিক প্রার্থীর হয়ে সুপারিশ করেছিলেন। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এক অভিযুক্তকে জেরা করে এই খবর পাওয়া যায় বলে জানা গেছে। শুধু তাঁর বয়ানের ওপর ভিত্তি করে নয়,এই বিষয়ে তথ্য জোগাড় করছেন কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকরা। ঘটনার সুত্রপাত গত মার্চ মাসের ১৯ তারিখে।

প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার কুন্তল ঘোষ এবং শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুত্র ধরে প্রথমে অয়ন শীলের নাম প্রকাশ্যে আসে। তাঁর সল্টলেকের অফিস এবং হুগলীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দিস্তা দিস্তা ও এম আর শিটের পাশাপাশি ২৮ পাতার একটি নথি পান তদন্তকারিরা। আপাতদৃষ্টিতে তা প্রাথমিক নিয়োগ সংক্রান্ত নথি মনে হলেও পরে জানা যায় ও গুলি পুর নিয়োগ দুর্নীতির নথি।বাজেয়াপ্ত সেই নথির মধ্যে বেশ কিছু কোড ওয়ার্ড পান আধিকারিকেরা।
ইডি সূত্রে খবর, ‘সিএইচ’,’ডিআই’,’এসবি’,’এমএম’,’এ’ ইত্যাদি একাধিক ‘কোড ওয়ার্ড’ লেখা ছিল ওই নথিতে। তাঁর রহস্যভেদ করেই তাঁরা বর্তমান ওই মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠকে জিজ্ঞাসাবাদ করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন। বাজেয়াপ্ত ২৮ পাতার নথির মধ্যে রয়েছে উত্তর দমদম,নিউ ব্যারাকপুর,দক্ষিন দমদম সহ বিভিন্ন পুরসভার নিয়োগ সংক্রান্ত প্যানেলের প্রার্থীর তথ্যাবলি।

পুরসভাগুলিতে মেডিক্যাল অফিসার,মজদুর, ওয়ার্ড মাষ্টার, ক্লার্ক,অ্যাসিস্ট্যান্ট ক্যাশিয়ার,হেল্পার, ড্রাইভার সহ একাধিকপদে নিয়োগের জন্য সুপারিশের তালিকাও ওই নথিতে রয়েছে। সাঙ্কেতিক নামের আড়ালেই ছিল সুপারিশ কর্তার নাম। সেখানে যেমন মন্ত্রীর নাম রয়েছে তেমন কোথাও সাঙ্কেতিক শব্দে অয়নের নাম রয়েছে। কোন কোডের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট পুরসভার চেয়ারম্যানের নাম।
জেরায় অয়ন জানিয়েছে, পুর নিয়োগ দুর্নীতি ২০১৪-১৫ সালে শুরু হয়েছিল।ওই সময়ের মধ্যে প্রায় ৬০ টি পুরসভায় কর্মী নিয়োগের বরাত পেয়েছিল অয়নের সংস্থা ‘এবিএস ইনফোজন’।সেই সময় এক একটি পুরসভায় প্রায় ১০০ জন করে নিয়োগ করা হয়েছিল।সেই হিসাবে প্রায় ৬০০০ নিয়োগ হয়েছিল বলে দাবি ইডি সূত্রে।তাঁর মধ্যে প্রায় ৫০০০ নিয়োগের ফলাফল বিকৃত করা হয়েছিল। সেই সময় কালে মন্ত্রী বিধায়করা কে কোন পদে ছিলেন সেই তথ্যও জোগাড় করা হয়েছে।

তদন্তে নেমে ইতিমধ্যে জুন মাসে সিবিআই দমদম পুরসভা,কামারহাটি ,টিটাগড়,শান্তিপুর,নিউ ব্যারাকপুর,পানিহাটি সহ সল্টলেক পুর ও নগরন্নয়ন দফতরে হানা দেয়।সমগ্র বিষয়টিতে রাজনীতির গন্ধ পেয়েছিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। ইডি এবং সিবিআই রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ দুই মন্ত্রীর বাড়িতে তল্লাশি করলেও ফিরহাদ বা রথিন কাউকেই ইডি দফতরে যেতে দেখা যায়নি।
কোড নামের আড়ালে পুর নিয়োগ দুর্নীতি, ইডির নজরে আরও এক মন্ত্রী

সিজিও কমপ্লেক্স এ একাধিকবার তলব করা হয় টিটাগড় পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রশান্ত চৌধুরী, বরাহ নগর পুরসভার চেয়ারপার্সন অপর্ণা মল্লিক এবং কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহাকে।তবে এখন পর্যন্ত পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি বা সিবিআই কাউকে গ্রেফতার করেননি।ইডির এক কর্তার মতে, কোড এর রহস্যভেদ হলেও দুর্নীতির রহস্যভেদ করতে আরও শক্ত করে আটঘাট বাঁধছেন তাঁরা।



