নজরবন্দি ব্যুরোঃ দিনহাটায় BJP নেতা খুনে CID’র হাতে গ্রেপ্তার অপর বিজেপি নেতা, ভোটের সময়েই দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়েছে উত্তরবঙ্গ। কোচবিহার জুড়ে চলেছে একাধিক অশান্তি। ভোটযুদ্ধ শুরুর ঠিক মুখে মুখে এক সকালে দিনহাটা বিজেপির শহর মন্ডল সভাপতি অমিত সরকারের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। তার প্রেক্ষিতেই এবার CID গ্রেপ্তার করলো দিনহাটা অপর এক বিজেপি নেতাকে।
আরও পড়ুনঃ শিল্পক্ষেত্রের অক্সিজেন থেকেই কি ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণ? জারি পক্ষ-বিপক্ষের যুক্তি


বিজেপি কার্যালয়ের পাশে পশু চিকিৎসালয়ের বারান্দায় অমিতের ঝুলন্ত দেহ লক্ষ্য করেন প্রাতঃভ্রমণকারীরা। তারপর সেখানে জড়ো হন স্থানীয়রা। বিজেপির অভিযোগ ছিলো, অমিত সরকারকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের তির যায় শাসক দল তৃণমূলের দিকেই। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়েছিল দিনহাটা। পরিস্থিতি সামাল দিতে অ্যাডিশনাল এস.পির নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী যায় ঘটনাস্থলে। সেই সময়ে রাজ্যের শান্তি শৃঙ্খলা কমিশনের হাতে থাকায় ঘটনার দুদিনের মাথায় দিনহাটা গিয়েছিলেন বিবেক দুবেও।
ঘটনার প্রেক্ষিতে যখন বারবার বিজেপির তরফ থেকে অভিযগের আঙুল তোলা হয়েছিলো তৃণমূলের দিকে, তখন তৃণমূল নেতা উদয়ন গুহু উল্টে দাবী করেছিলেন ঘটনার নেপথ্যে বিজেপির যোগ রয়েছে। তিনি ঘটনার পরেই জানিয়েছিলেন, “আমি খবর পেয়েছি গতকাল রাতে নিশীথ প্রামাণিকের বাড়িতে গিয়েছিলেন অমিতবাবু। সেখানে ওঁকে অপমান করা হয়েছিল। অনেক রাতে বাড়ি ফেরেন। তারপর একজন ডেকে নিয়ে যায় তাঁকে। এরপর উদ্ধার হয় ঝুলন্ত দেহ।”
তার পর ভোট গেছে রাজ্যে, বিজেপির পরিবর্তে বাংলায় ফের ক্ষমতা নিয়ে ফিরে এসেছে মমতা সরকার। করোনার বাড়বাড়ন্ত চলছে রাজ্য জুড়ে, এই পরিস্থিতিতে সরকার গঠনের পর থেকেই আবার পুরান সব মামলা শুরু হয়েছে একে একে। আর তাতেই এবার CID এর হাতে গ্রেপ্তার হলেন দিনহাটার অপর এক বিজেপি নেতা।


সূত্রের খবর এর আগেই অমিতবাবুর পোস্টমর্টেম রিপোর্টে বলা হয়েছিল আত্মহত্যাই করেছেন ওই বিজেপি নেতা। অনেকে এর পিছনে যুক্তি দেখিয়েছিলেন এই নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারা এবং ব্যাক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন। তবে তদন্তে নেমে CID বেশ কিচু চাঞ্চল্য কর তথ্য খুঁজে পায়। তার জেরেই এবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে চন্দন মণ্ডল নামের বিজেপির এক নেতাকে।
তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার দিন এই চন্দনই বাড়ি থেকে অমিতবাবুকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল পার্টি অফিসে। একই সঙ্গে তাঁকেই শেষবার অমিতবাবুর সঙ্গে দেখা গিয়েছিল। আরো কিছু তথ্য একসঙ্গে যোগ করে চন্দনকে গ্রেপ্তার করেছে CID। বিজেপি নেতা খুনের দায়ে অপর বিজেপি নেতা গ্রেপ্তার হওয়ায় বিপাকে গেরুয়া শিবির। এর মধ্যে আবার ৫৭ ভোটে জয়ী হওয়ায় বিধায়ক নিশীথ প্রামানিক নিজের সাংসদ পদ বাঁচানোর খাতিরে ছেড়েছেন বিধায়ক পদ, সব মিলিয়ে চরম অস্বস্তিতে বিজেপি।







