অন্নপূর্ণা যোজনা-র ৩,০০০ টাকা পেতে শুধু নাম নথিভুক্ত করলেই হবে না। আবেদনকারীদের পরিবার, সম্পত্তি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, এমনকি শ্বশুর-শাশুড়ি ও বাবা-মায়ের তথ্যও দিতে হবে ১১ পাতার বিস্তারিত ফর্মে। রাজ্য সরকারের নতুন এই প্রকল্প ঘিরে সাধারণ মানুষের আগ্রহের মধ্যেই সামনে এসেছে আবেদন প্রক্রিয়ার খুঁটিনাটি।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি নবান্নে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম প্রকাশ করেছেন। অনলাইন ও অফলাইন—দুই পদ্ধতিতেই আবেদন করা যাবে। সরকারের দাবি, প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করতেই বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি পরিবারের জন্য একটি ফর্ম বরাদ্দ থাকবে। তবে সেই ফর্মে পরিবারের একাধিক সদস্যের তথ্য যুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
ফর্মের প্রথম অংশে পরিবারের প্রধানের নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা, লিঙ্গ, আধার নম্বর এবং আধারের সঙ্গে সংযুক্ত মোবাইল নম্বর উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নাম ও পারিবারিক সম্পর্কের তথ্যও দিতে হবে।
আবেদনকারীদের পরিবারের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর জমা দিতে হবে। সেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার সংযুক্ত থাকা বাধ্যতামূলক বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়া পরিবারের সব সদস্যের ভোটার কার্ড (EPIC) নম্বর, বিধানসভা কেন্দ্রের নাম এবং পার্ট নম্বরও ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ডিজিটাল রেশন কার্ড ও প্যান কার্ড থাকলে তার তথ্যও দিতে হবে।
ফর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য। আবেদনকারী যে বাড়িতে থাকেন, সেটি পাকা না কাঁচা, তিন বা তার বেশি পাকা ঘর আছে কি না, সেই তথ্য চাওয়া হয়েছে।
পরিবারের মালিকানাধীন জমির পরিমাণ, মিউটেশন এবং রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত তথ্যও জমা দিতে হবে। ফলে জমির দলিল এবং সংশ্লিষ্ট নথি আগে থেকেই প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন প্রশাসনিক কর্তারা।
শুধু সম্পত্তি নয়, পরিবারের আর্থিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্যও জানতে চাওয়া হয়েছে। কোনও সদস্য আয়কর বা পেশাগত কর দেন কি না, সরকারি চাকরি করেন কি না, পেনশন পান কি না কিংবা ব্যবসার ক্ষেত্রে GST প্রদান করেন কি না—সবই উল্লেখ করতে হবে।
বার্ষিক আয়, সরকারি বা সাংবিধানিক পদে থাকার তথ্যও আবেদনপত্রে দিতে হবে। অর্থাৎ প্রকৃত আর্থিক অবস্থার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি করতে চাইছে প্রশাসন।
ফর্মে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্যও রয়েছে। পরিবারের শিশুদের টিকাকরণ সংক্রান্ত তথ্য এবং অন্য কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া হলে তা উল্লেখ করতে হবে।
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, আবেদন জমা দেওয়ার পর তথ্য যাচাই করবে প্রশাসন। কোনও অসঙ্গতি ধরা পড়লে আবেদন বাতিল হতে পারে এবং তার কারণ লিখিতভাবে নথিভুক্ত করতে হবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের ক্ষেত্রেও এই তথ্যভান্ডার ব্যবহার করা হতে পারে। সেই কারণেই আবেদনপত্রকে এত বিস্তারিত করা হয়েছে।
বর্তমানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধাভোগীদেরও নতুন করে আবেদন করতে হবে। সরকারের দাবি, পুরনো তালিকায় থাকা ভুয়ো নাম বাদ দিয়ে নতুন ও স্বচ্ছ উপভোক্তা তালিকা তৈরি করাই লক্ষ্য।
অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলারাই এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন। তবে সরকারি চাকরিজীবী, পেনশনভোগী এবং নির্দিষ্ট কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এই সুবিধার আওতায় থাকবেন না।
রাজ্য সরকার জানিয়েছে, আবেদন যাচাইয়ের দায়িত্ব গ্রামাঞ্চলে বিডিও এবং শহরাঞ্চলে এসডিওদের উপর থাকবে। চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসক।
সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ১ জুন থেকে তিন মাস ধরে আবেদন প্রক্রিয়া চলবে। তবে যাঁরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পূর্ণ করতে পারবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে দ্রুত আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



