অন্নপূর্ণা যোজনাকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে বাড়ছে আগ্রহ। এবার প্রকল্পের ফর্ম কোথায় পাওয়া যাবে, কীভাবে জমা দিতে হবে এবং কেন আবেদনকারীদের পারিবারিক তথ্য চাওয়া হচ্ছে— সেই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিলেন রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছেই পৌঁছয়, তার জন্যই তথ্য যাচাইয়ে জোর দিচ্ছে সরকার।
গত বুধবারই অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম এবং ওয়েবসাইট প্রকাশ্যে আনে রাজ্য সরকার। এরপর বৃহস্পতিবার মন্ত্রী জানান, অফলাইনে বিডিও অফিস, ডিএম অফিস, পুরসভা ও ওয়ার্ড অফিস থেকে ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে। পাশাপাশি পুরসভার কর্মীরাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পৌঁছে দেবেন বলেও জানান তিনি।
ফর্ম পূরণ করার পর নিকটবর্তী সরকারি অফিসে জমা দেওয়া যাবে। আবেদনকারীদের উদ্দেশে অগ্নিমিত্রা পালের স্পষ্ট বার্তা, সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। কারণ, এই তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী যাচাই প্রক্রিয়া চলবে।
মন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। তাঁর দাবি, লক্ষ্মীর ভান্ডারের মতো প্রকল্পে এমন অনেকেই সুবিধা পেয়েছেন, যাঁদের প্রকৃতপক্ষে পাওয়ার কথা ছিল না। সেই কারণেই এবার আবেদনকারীদের আর্থিক ও পারিবারিক তথ্য খতিয়ে দেখা হবে।
অগ্নিমিত্রা পালের কথায়, “সাধারণ মানুষের করের টাকায় এই প্রকল্প চলে। তাই আমরা চাই, যাঁদের প্রকৃত প্রয়োজন তাঁরাই সুবিধা পান।” তিনি আরও জানান, আপাতত আয়কর সংক্রান্ত তথ্য বিশেষভাবে যাচাই করা হবে। তবে ভবিষ্যতের পরিকল্পনার কথা মাথায় রেখেই অন্যান্য তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে।
মন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, যাঁদের ইনকাম ট্যাক্স ফাইল নেই, তাঁরা অবশ্যই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। আবার যাঁরা আইটি রিটার্ন জমা দেন কিন্তু কর দেওয়ার মতো আয় নেই, তাঁরাও এই প্রকল্পের আওতায় থাকতে পারেন। তবে আবেদনপত্রে ভুল বা অসত্য তথ্য দিলে তা ধরা পড়ে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এদিন নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়েও মন্তব্য করেন অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর দাবি, দেশের নাগরিক নন এমন কেউ এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। তবে যাঁরা সিএএ-র জন্য আবেদন করেছেন বা ট্রাইব্যুনালে আবেদন জমা দিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্র আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে।
সরকারি সূত্রে খবর, আগামী ৩ জুন নবান্ন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্নপূর্ণা যোজনার সূচনা হবে। প্রথম পর্যায়ে কয়েকজন উপভোক্তার হাতে সরাসরি প্রকল্পের সুবিধা তুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি অফিসে বিশেষ ক্যাম্পও আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।



