ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেহাংশ, আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডে মৃত বেড়ে ১১, নিখোঁজ ডায়েরি ১৭ জনের পরিবারের

নরেন্দ্রপুরের আনন্দপুরে ডেকরেটর্সের অফিস ও গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। মৃত বেড়ে ১১, এখনও নিখোঁজ অনেকে। ১৭টি পরিবারের তরফে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোররাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে ভয়াবহ বিভীষিকা। দক্ষিণ কলকাতার আনন্দপুরে ভয়ঙ্কর অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১-তে। এখনও একাধিক কর্মীর খোঁজ নেই। নিখোঁজদের সন্ধানে ১৭টি পরিবারের তরফে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধারকাজ চললেও ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, সেই আশঙ্কা কাটেনি।

রবিবার ভোররাতে নাজিরাবাদ এলাকায়, ইএম বাইপাস সংলগ্ন আনন্দপুর-এর একটি ডেকরেটর্সের অফিস ও পাশাপাশি থাকা গোডাউনে আগুন লাগে। এলাকা পড়ে নরেন্দ্রপুর থানা-র অন্তর্গত। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ রূপ নেয়। দম বন্ধ করা ধোঁয়া আর দাউদাউ আগুনের মধ্যে বেরোনোর পথ খুঁজে পাননি বহু কর্মী।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গোডাউনের পাশেই ছিল ডেকরেটর্সের অফিস, যেখানে কর্মীরা থাকতেন। সেখানে নিয়মিত রান্না চললেও নিরাপত্তার কোনও ব্যবস্থা ছিল না। কর্মীদের থাকার জায়গায় ছিল মাত্র একটি দরজা। আগুন লাগতেই সেই দরজা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। কোনও মতে কয়েকজন বাইরে বেরোলেও পাশের গোডাউনে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় আর শেষরক্ষা হয়নি। জ্বলন্ত গোডাউন পার হতে না পেরে একের পর এক কর্মীর মৃত্যু হয়।

ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চলাকালীন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেহাংশ পাওয়া যাচ্ছে। ভাঙা কারশেডের নীচে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন উদ্ধারকারীরা। দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এখনও ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ডেকরেটর্সের গোডাউনে রান্না করার সময় আগুন লাগে। সেখান থেকেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের মোমো তৈরির কাঁচামাল রাখা গোডাউনে। দুটি গোডাউনেই বিপুল পরিমাণ দাহ্যবস্তু মজুত ছিল। অথচ আগুন নেভানোর কোনও ব্যবস্থা—ফায়ার এক্সটিঙ্গুইশার বা জরুরি নির্গমন পথ—কোনওটিতেই ছিল না। এই চরম অব্যবস্থাই অগ্নিকাণ্ডকে বিধ্বংসী রূপ দিয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

নাজিরাবাদের ওই এলাকায় পাশাপাশি দুটি গোডাউন। ডেকরেটর্সের গোডাউন থেকে বেরিয়ে একটি সরু রাস্তা অফিসের দিকে গিয়েছে। পাশের ফাঁকা জায়গায় রাখা ছিল কাঁচামাল। মোমোর কাঁচামাল রাখার গোডাউনেও ঢোকা-বেরোনোর একটিই পথ। রবিবার গভীর রাতে সেই রাস্তাটিও আগুনে ঢেকে যায়। ফলে বহু কর্মী আর বেরোতে পারেননি। দগ্ধ হয়ে তাঁদের মৃত্যু হয়।

মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা প্রশাসনের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত