আনন্দপুরে মৃত্যুমিছিল থামছে না: ২৫টি দেহাংশ উদ্ধার, মৃতের সংখ্যা কি আরও বাড়বে?

আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ২৫টি দেহাংশ উদ্ধার। উদ্ধারকাজ চললেও নিখোঁজ বহু। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে কি না, তা নিয়েই বাড়ছে জল্পনা ও রাজনৈতিক চাপানউতোর।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

চার দিন কেটে গিয়েছে, তবু এখনও স্পষ্ট নয়—আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঠিক কতজনের প্রাণ গিয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা সত্য ধীরে ধীরে সামনে আসছে। বৃহস্পতিবার আরও চারটি দেহাংশ উদ্ধারের পর আতঙ্ক আরও গভীর হয়েছে। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ২৫টি দেহাংশ উদ্ধার হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে—এই সংখ্যা কি এখানেই থামবে, না কি আরও বাড়তে চলেছে মৃত্যুর হিসাব?

শুক্রবার সকাল থেকে নতুন করে উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। গোডাউন চত্বর ঘিরে কড়া পুলিশি প্রহরা। গোডাউনটি সিল করে দিয়েছে পুলিশ এবং এলাকায় জারি রয়েছে ১৬৩ ধারা। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত ২১টি দেহাংশের ময়নাতদন্ত সম্পূর্ণ হয়েছে। বৃহস্পতিবার উদ্ধার হওয়া চারটি দেহাংশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে এখনও কয়েকজন নিখোঁজ থাকায় মৃতদের পরিবারগুলির উৎকণ্ঠা ক্রমশ বাড়ছে।

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে গোটা গুদাম কার্যত বিধ্বস্ত হয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজ দ্রুত গতিতে চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ধাপে ধাপে এগোচ্ছে প্রশাসন। এই পরিস্থিতিতে আরও দেহাংশ উদ্ধারের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরাও।

এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। শুভেন্দু অধিকারী-র নেতৃত্বে আনন্দপুরে মিছিলের অনুমতি দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সকাল ১১টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টে পর্যন্ত প্রতিবাদ কর্মসূচি চলবে। মিছিলে সর্বোচ্চ ২০০০ জন অংশ নিতে পারবেন।

এর আগে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, “এখানে দেহাংশ ফলের প্যাকেটে করে পাচার হয়ে যাচ্ছে।” মৃতের সংখ্যা প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, “আমাদের ধারণা, এই ঘটনায় ৩৫ থেকে ৪০ জন পর্যন্ত মারা যেতে পারেন।”

অন্য দিকে, আনন্দপুরের ডেকরেটিং গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে এই গ্রেফতারি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ। প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে মূল অভিযুক্তদের আড়াল করছে বলে অভিযোগ তাঁর। দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, “এত বড় গোডাউন বেআইনিভাবে তৈরি করতে গেলে শুধু একজনের পক্ষে সম্ভব নয়। অনেককে খুশি করতে হয়েছে। তার মধ্যে পুলিশও আছে, তৃণমূলের নেতা-বিধায়কও আছেন। তাই সোনার ডিম পাড়া রাজহাঁসকে মারা হবে না। ছোটখাটো লোকদের গ্রেফতার করে বিষয়টা ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।”

মৃতের সঠিক সংখ্যা, উদ্ধারকাজের গতি এবং দায় নির্ধারণ—সব মিলিয়ে আনন্দপুরের এই অগ্নিকাণ্ড ঘিরে রহস্য ও ক্ষোভ, দুটোই ক্রমশ বাড়ছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত