একরাতেই মতবদল! অমিত শাহের ফোনেই ভোলবদল শুভেন্দুর?

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ একরাতেই মতবদল! নাকি অমিত শাহের ফোনে মত পরিবর্তন? শুভেন্দু অধিকারীর টেক্সট মেসেজ পাওয়ার পর মুখ খুললেন তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়ও। তিনি সাফ জানিয়েছেন, তিনি যা দাবি করেছিলেন তা ষোলো আনা সত্যি। তাঁর কথায়, ‘যা বলেছিলাম, তা সত্যনিষ্ঠার সঙ্গেই জানিয়েছিলাম, শুভেন্দু মত পরিবর্তন করলে তিনিই বাকিটা বলবেন।’ সৌগতবাবুকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, শুভেন্দুর সঙ্গে কি ফের বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে?

আরও পড়ুনঃ ‘রাজ্যের উন্নয়নে বাঙালি থেকে অবাঙালিদের অবদান বেশি’: দিলীপ ঘোষ

জবাবে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আর সম্ভবনা নেই।’ এদিন দুপুর ২টো ৩০ নাগাদ সৌগত রায়কে এসএমএসে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমি আপনাকে যথেষ্ট শ্রদ্ধা করি। কিন্তু গতকাল বৈঠকে আমাকে অনৈতিকভাবে ডাকা হয়েছিল। আমি ভবিষ্যতে আপনাদের সঙ্গে কাজ করতে চাই না।” এরপরই আবারও শুরু হয়েছে জল্পনা। গতকাল ঠিক কি হয়েছিল তৃণমূলের বৈঠকে? শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রের দাবি, বৈঠক চলাকালীন সৌগত রায় ফোন করেছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় কে।

ফোনে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সাথে সৌজন্য বিনিময় হয়। কিন্তু এর বেশি কোন কথা হয়নি। এদিকে বৈঠক চলাকালীন আগে যেমন ভাবে ৫ জেলার দায়িত্ব ছিল তাঁর ওপর তেমন ভাবেই সেই দায়িত্ব আবার তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান প্রাক্তন পরিবহন মন্ত্রী। ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর, দাবি যতক্ষন না দল মেনে নিচ্ছে ততক্ষন শুভেন্দুর পক্ষ থেকে দলে থাকা বা না থাকা নিয়ে কোন মন্তব্য করা হবে না। অন্যদিকে, মঙ্গলবার রাতে সূত্রের দাবি, রাজ্য বিজেপির নেতাদের বিজেপি সর্বোচ্চ নেতৃত্ব জানিয়েছে আজ রাতেই অমিত শাহ ফোনে কথা বলতে পারেন শুভেন্দু অধিকারীর সাথে।

সূত্র জানিয়েছে, রাজ্য বিজেপি-তে শীর্ষ পদে থাকা তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগদানকারী নেতৃত্ব শুভেন্দুর খবরে রীতিমত বিড়ম্বনায় পড়েছেন। বিশেষত সেইসব নেতাদের যারা অতীতে শুভেন্দু অধিকারীর সাথে একসাথে তৃণমূলে থাকাকালীন ছবি পোস্ট করে তাঁকে স্বাগত জানিয়েছিলেন বিজেপিতে। সূত্রের কথায়, “এই মাসেই দাদার বিজেপি জয়েন করার কথা ছিল! কি যে হল আবার সেটা জানা খুব প্রয়োজন। তবে আমাদের বিশ্বাস দাদা বিজেপিতেই যোগ দেবেন।” তাহলে কি অমিতের ফোনেই মত পরিবর্তন শুভেন্দুর? উল্লেখ্য, গতকাল প্রাথমিক ভাবে সূত্র মারফত শুভেন্দুর সাথে বৈঠকের খবর আসে। যা কনফার্ম করেন সাংসদ সৌগত রায়।

তিনি ফোনে জানান, “শুভেন্দু দলে ছিল। দলেই থাকবে। এটা বৈঠকে ফয়সলা হল। একসঙ্গে কাজ করব। এরপর শুভেন্দু অধিকারী সংবাদমাধ্যমে সব জানাবেন। সৌগতবাবুর সেই কথায়, তৃণমূলের অনেকের মধ্যেই আশার সঞ্চার হয়েছিল। এমনকী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় রাতারাতি ভোল বদল করে বলেছিলেন, শুভেন্দু আমার ভাই। অথচ বুধবার বেলা গড়ানোর আগে সেই শুভেন্দুরই একটি টেক্সট মেসেজে ফের আন্দোলিত তৃণমূল। কারণ, সূত্রের মতে, দলের এই হেভিওয়েট তরুণ নেতা জানিয়ে দিয়েছেন, এক সঙ্গে কাজ করা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব নয়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত