পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) ও শুনানি প্রক্রিয়া চলার মধ্যেই রাজনৈতিক বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে অনুপ্রবেশই বিজেপির প্রধান ইস্যু হবে।
শাহের বক্তব্য, বাংলার সীমান্ত দিয়ে যে অনুপ্রবেশ ঘটছে, তা আর শুধু রাজ্যের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়—দেশের সার্বিক নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর অভিযোগ, এই পরিস্থিতির জন্য রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস সরাসরি দায়ী। তিনি বলেন, “বাংলার ভৌগোলিক চরিত্র ও জনবিন্যাস বদলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, আর রাজ্য সরকার নীরব সমর্থন জুগিয়ে যাচ্ছে।”


সাংবাদিক সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মতুয়া সম্প্রদায়কে উদ্দেশ করে আশ্বাস দেন—তাঁদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। পাশাপাশি তিনি বলেন, অনুপ্রবেশ রুখতে শক্ত সরকার প্রয়োজন, যে সরকার সীমান্তকে এমনভাবে সুরক্ষিত করবে যাতে “মানুষ তো দূরের কথা, একটি পাখিও বেআইনিভাবে ঢুকতে না পারে।”
নিজের বক্তব্যে ২০১৪ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বাংলায় বিজেপির নির্বাচনী ফলাফলের পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন শাহ। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ২০১৪ সালে যেখানে বিজেপির ভোট শতাংশ ছিল ১৭ এবং আসন ছিল ২টি, ২০১৯ লোকসভায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪১ শতাংশ ও ১৮টি আসনে। ২০২১ বিধানসভায় বিজেপি পায় ৩৮ শতাংশ ভোট ও ৭৭টি আসন, আর ২০২৪ লোকসভায় ৩৯ শতাংশ ভোটে ১২টি আসন। এই ধারাবাহিকতা ধরে ২০২৬ সালে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জিতে বিজেপি সরকার গঠন করবে বলে দাবি করেন তিনি।
ভাষণের শুরুতেই বাঙালি আবেগে সুর তোলেন অমিত শাহ। তিনি স্মরণ করান, ১৯৪৩ সালের এই দিনেই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু পোর্ট ব্লেয়ারে প্রথম স্বাধীন ভারতের পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ‘সিন্ডিকেট সংস্কৃতি’র অভিযোগ তুলে বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলার গৌরব ও সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ ঘটবে।


শাহের কথায়, “স্বামী বিবেকানন্দ, বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ ও শ্যামাপ্রসাদের স্বপ্নের বাংলা গড়াই আমাদের লক্ষ্য।” তাঁর দাবি, ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিলের পর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিজেপির সরকারই দায়িত্ব নেবে।







