নজরবন্দি ব্যুরো: পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী থেকেছে বাংলা। শাসক দল তৃণমূল বিপুল ভোটে জয় পেয়েছে। কিন্তু বিরোধীরা প্রথম থেকেই সন্ত্রাসের অভিযোগ এনেছে। কিন্তু এবারে তো উলটপুরাণ! আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ। তিনি নাকি জয়ী নির্দল প্রার্থীর শংসাপত্র আটকে রেখেছেন! এমনই অভিযোগ নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ অভিযোগকারী। এই ঘটনায় সুর চড়িয়েছে তৃণমূল।
আরও পড়ুন: DA ইস্যুতে সুর চড়ালেন আন্দোলনকারীরা, রাষ্ট্রপতির কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর আর্জি
ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়া অঞ্চলের বামুনিয়া গ্রামের ১৪৭ নম্বর বুথে আইএসএফ-এর সমর্থনে পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন সাদেকুল মোল্লা। জানা গিয়েছে, ভোটে জিতে শংসাপত্র নিয়ে নওশাদের কাছে যান তিনি। এরপরই শংসাপত্র দেখার নাম করে আইএসএফ বিধায়ক সেটি নিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন। অনেকবার বললেও তিনি সাদেকুলকে ফেরত দেননি। এরপরই বিধায়কের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনে পুলিশের কাছে গিয়েছেন জয়ী নির্দল প্রার্থী। তিনি বলেন, “আমি আইএসএফ-এর সমর্থনে নির্দল প্রার্থী হয়ে লড়েছিলাম। এরপর নওশাদ সাহেব আমার কাছ থেকে সার্টিফিকেটকা নিয়ে দেখে ফেরৎ দেবেন বলে, আর ফেরৎ দেননি। সেই জন্য আমি থানায় এসেছি, সার্টিফিকেটটা যেন পাই।’

এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছে তৃণমূল। ভাঙড়ের তৃণমূল নেতা হাকিমুল ইসলাম বলেন, “একটা জয়ী প্রার্থীর সার্টিফিকেট নিয়ে আটকে রাখা, মানুষ তাঁকে জিতিয়েছেন, কোন ধরণের রাজনীতি আপনি করছেন? এটা ভাঙড়ের মানুষ কোনওদিনও মেনে নেবেন না। অনুরোধ রাখিছ নওশাদ সাহেব, এমন রাজনীতি আপনি করবেন না। এই ঘটনায় ধিক্কার এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ করব।’

উল্লেখ্য, পঞ্চায়েত নির্বাচনে দফায় দফায় ‘অশান্ত’ হয়ে উঠেছিল ভাঙড়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। এরফলে নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রেই ঢুকতে বারংবার পুলিশি বাধা মুখে পড়েন নওশাদ সিদ্দিকি। পুলিশের বিরুদ্ধে অতিসক্রিয়তার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। অবশেষে ১৪৪ ধারা উঠে যাওয়ায় শনিবার ভোট হিংসায় আহত ও নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে ভাঙড়ে যান আইএসএফ বিধায়ক।
শংসাপত্র আটকে রাখার অভিযোগ নওশাদের বিরুদ্ধে, পুলিশের দ্বারস্থ জয়ী নির্দল প্রার্থী




