আইনি বিচ্ছেদ বা ডিভোর্স না নিয়ে কোনও বিবাহিত ব্যক্তি তৃতীয় কোনও ব্যক্তির সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকতে পারবেন না—এই মর্মে স্পষ্ট রায় দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এমন সম্পর্ক আইনসম্মত নয় এবং এই ধরনের ক্ষেত্রে আদালতের সুরক্ষাও প্রযোজ্য হবে না।
সাম্প্রতিক রায়ে হাইকোর্ট একটি যুগলের পুলিশি নিরাপত্তার আবেদন খারিজ করেছে। আবেদনকারীরা প্রাপ্তবয়স্ক হলেও আদালত জানায়, তাঁদের একজন এখনও আইনত বিবাহিত এবং পূর্ববর্তী সঙ্গীর সঙ্গে ডিভোর্স হয়নি। ফলে তৃতীয় ব্যক্তির সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্ককে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া যায় না।
শুনানিতে বিচারপতি বিবেক কুমার সিং বলেন, ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা নিরঙ্কুশ নয়। এই অধিকারকে কোনওভাবেই বৈধ স্বামী বা স্ত্রীর সংবিধিবদ্ধ অধিকারের উপর প্রাধান্য দেওয়া যায় না। আইনে স্বীকৃত দাম্পত্য সম্পর্কে একে অপরের সাহচর্য লাভের অধিকার থাকে—এ কথা আদালত স্মরণ করিয়ে দেয়।
আদালত আরও ব্যাখ্যা করে, দুই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করার অধিকার কারও নেই—এমনকি পরিবারেরও নয়। তবে স্বাধীনতার সীমা সেখানেই শেষ, যেখানে অন্য একজনের আইনি অধিকার শুরু হয়। সেই ভারসাম্য বজায় রাখাই সংবিধানের উদ্দেশ্য।
মামলার প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, আবেদনকারীদের মধ্যে একজন এখনও আইনত বিবাহিত থাকায় লিভ-ইন সম্পর্কটি অবৈধ। এই যুক্তিতে আদালত সুরক্ষা দেওয়ার আবেদন খারিজ করে দেয়। রায়ের শেষাংশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, পূর্ববর্তী স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকলে এবং ডিভোর্স সম্পন্ন না হলে তৃতীয় ব্যক্তির সঙ্গে লিভ-ইনে প্রবেশের অনুমতি নেই।
এই রায় ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বনাম সামাজিক ও আইনি কাঠামোর সীমারেখা নতুন করে নির্ধারণ করল। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এই ধরনের মামলায় এটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে ব্যবহৃত হবে—যেখানে ব্যক্তিগত পছন্দ থাকলেও বিবাহের মতো সামাজিক চুক্তির আইনি দায়বদ্ধতা অক্ষুণ্ণ রাখার কথা জোর দিয়ে বলা হয়েছে।



