চিরকুট, মাইক্রো জেরক্স নয়—মাধ্যমিক পরীক্ষায় টুকলির নতুন অস্ত্র এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। ভূগোল পরীক্ষার দিনে প্রশ্নপত্র পেয়েই স্মার্টফোনে এআই খুলে উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিভিন্ন জেলায় ধরা পড়ল ১২ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ১১ জনই এআই ব্যবহার করছিল বলে অভিযোগ। প্রযুক্তির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নকলের ধরন বদলে যাওয়ায় পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
শনিবার মাধ্যমিকের ভূগোল পরীক্ষায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে আসে। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ১২ জনের বেশিরভাগই মোবাইলে এআই টুল ব্যবহার করছিল। পর্ষদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, চলতি বছরে মোবাইল-সহ ধরা পড়া পরীক্ষার্থীদের মধ্যে এআই ব্যবহারের হারই সবচেয়ে বেশি—এবং অনেক ক্ষেত্রে দলবদ্ধভাবে এই কৌশল নেওয়া হয়েছে।


সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে কলকাতার ঘটনা। বদরতলা হাই স্কুলে পরীক্ষা দিতে গিয়ে চার পরীক্ষার্থী ধরা পড়ে। তারা সকলেই গার্ডেনরিচ কেশোরাম কটন মিলস হাই স্কুল–এর ছাত্র। এছাড়াও কোচবিহার–এ দু’জন এবং পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি ও বাঁকুড়ায় একজন করে পরীক্ষার্থী মোবাইল-সহ ধরা পড়েছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কড়া নজরদারির মধ্যেও মোবাইল ঢুকল কীভাবে? প্রাথমিক তদন্তে জানা যাচ্ছে, অনেকেই অন্তর্বাসের ভিতরে বা জুতোর মধ্যে স্মার্টফোন লুকিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকেছিল। সেই কারণেই প্রথমে ধরা পড়েনি। পরে পরীক্ষাকক্ষেই আচরণে সন্দেহ হওয়ায় তল্লাশি করে মোবাইল উদ্ধার হয়।
এদিকে, নকল সংক্রান্ত আরেকটি ঘটনায় পর্ষদ কড়া অবস্থান নিয়েছে। শুক্রবার ইতিহাস পরীক্ষার দিন মানিকচক ব্লকের বিএসএস হাই স্কুল–এ এক পরিদর্শকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পর্ষদের দেওয়া কাগজেই উত্তর লিখে পরীক্ষার্থীদের বলে দিচ্ছেন ওই শিক্ষক। ঘটনার পর তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং নিয়মভঙ্গের অভিযোগে ২১৪-এর ২২ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পর্ষদ।


মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিকে টুকলি নতুন নয়। কিন্তু প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে নকলের পদ্ধতি যে আমূল বদলে গেছে, এবছরের ঘটনাগুলোই তার প্রমাণ। বই থেকে মুখস্থ নয়, চিরকুট নয়—জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় সরাসরি এআইয়ের উপর ভরসা করছে জেন জি। এই ‘ডিজিটাল টুকলি’ কীভাবে রোখা যাবে, তা নিয়েই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শিক্ষা প্রশাসনের সামনে।







