নজরবন্দি ব্যুরোঃ গতকালই ‘অগ্নিপথ’ (Agnipath) প্রকল্পের আওতায় ভারতীয় স্থল সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বায়ুসেনা বাহিনীতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছএন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ভাষায়, “ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত” নেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। কিন্তু ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্প ঘোষণা করার পর থেকেই দেশজুড়ে তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। গতকাল ঘোষণার পর থেকে দেশের একাধিক যায়গায় বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ সারদা মামলায় বিরাট স্বস্তি কুণালের, অভিযোগমুক্ত করল আদালত
সরকারের ওই প্রকল্পের বিরোধিতা করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় চলছে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, জ্বলছে আগুন। কিন্তু কী কারণে এই বিক্ষোভ? কি এই অগ্নিপথ প্রকল্প? আসলে ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্পের হাজার হাজার যুবক সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে পারবেন। কিন্তু সমস্যা হল, চার বছর প্রশিক্ষণের পর দুই-তৃতীয়াংশকেই অবসর নিতে হবে। ফলে চাকরির কোন নিশ্চয়তা থাকবে না। সেক্ষেত্রে কয়েক বছর পরেই বেকারের তকমা ঘাড়ে আবার খুঁজতে হবে নতুন চাকরি।

এই প্রক্রিয়ায় সেনাবাহিনীর তিন বিভাগে চার বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ হবে। আপাতত ৪৫ হাজার নিয়োগের টার্গেট নেওয়া হয়েছে। যাদের বয়স ১৭ বছর ৫ মাস থেকে ২১ বছরের মধ্যে তাঁরাই সুযোগ পাবেন। সমস্যা হল, চার বছর হওয়ার পর সবার চাকরি চলে যাবে। তারপর তাদের মধ্য থেকে পূর্ণাঙ্গ সময়ের জন্য ২৫ শতাংশ সেনাকে পুনরায় নিযুক্ত করবে সরকার। যাঁদের চাকরি থাকবে না, তাঁদের এককালীন ১১ লক্ষ থেকে ১২ লক্ষ টাকার করমুক্ত ভাতা দেওয়া হবে।

জানা গিয়েছে প্রথম বছর নেওয়া হবে ৪০ হাজার তরুণকে। প্রথম বছর তাঁরা পাবেন ৩০ হাজার টাকা। চতুর্থ বছরে সেই টাকার অংক দাঁড়াবে ৪০ হাজারে। আয়ের ৩০ শতাংশ তাঁরা জমাতে পারবেন। সম পরিমাণ টাকা দেবে সরকারও। তবে ভারতই এক মাত্র দেশ নয়, যেখানে এ ধরনের প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি সেনাবাহিনীতে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ইজরায়েল, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, নর্থ কোরিয়া, সাউথ কোরিয়া, রাশিয়া, চিন, ইউক্রেন-সহ বিভিন্ন দেশ এই প্রকল্প চালু করেছে।
সেনাবাহিনীতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্প ঘিরে জ্বলছে দেশ।

‘চুক্তিভিত্তিক অস্থায়ী সেনা’ নিয়োগের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে যে সমস্ত রাজ্য গুলি থেকে সেনাবাহিনীতে যোগদানের প্রবণতা বেশি সেই রাজ্যগুলোতেই বিক্ষোভ চলছে। তবে সরকারের বক্তব্য, স্বল্প মেয়াদি নিয়োগের ফলে সরকারের ৫.২ কোটি টাকা বাঁচবে। পাশাপশি, এখানে দেশপ্রেমের চেয়ে কর্মসংস্থানের দিকটাই আরও বড়ো করে দেখা হচ্ছে।



