নজরবন্দি ব্যুরোঃ বুধবার দুপুরে বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে ঢোকেন ইডির তদন্তকারী অফিসারেরা। এর পর টাকা উদ্ধার করে গুনতে গুনতে পার ১৯ ঘণ্টা। বুধবার দুপুর থেকে শুরু করে বৃহস্পতিবার ভোর ৪টে পর্যন্ত চলে তল্লাশি অভিযান। বুধবার কেন্দ্রীয় আর্থিক তদন্তকারী সংস্থা ইডি অভিযানে নেমে অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বেলঘরিয়ার রথতলার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করেছে নগদ ২৭ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা। এরপর আজ আবার। টালিগঞ্জ বেলঘরিয়ার পর চিনার পার্ক তারপর আবার নতুন এক যায়গায় খোঁজ পেয়েছে ইডি। অর্পিতার এই ফ্ল্যাটটি রয়েছে নয়াবাদে।
আরও পড়ুনঃ দলের সমস্ত পদ থেকে অপসারিত করা হচ্ছে পার্থকে, ঘোষণা অভিষেকের
তৈরি হোন, লক্ষ্মীবারে আজ আবার রাত জাগতে হতে পারে। টার্গেট নয়াবাদের একটি ফ্ল্যাট এবং চিনার পার্কে রয়েল রেসিডেন্সি আবাসন। বি ব্লকের ফোর্থ ফ্লোরে B404 অর্পিতার বিশাল ফ্ল্যাটের খোঁজ পেয়েছেন ইডি আধিকারিকরা। গভীর রাতেই কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে একযোগে তল্লাশি অভিযানে নামছে ইডি। বেলঘরিয়ার রথতলায় অর্পিতার সিল করা ফ্ল্যাটেও ফের তল্লাশি চলবে এখন। মোট চারটি যায়গায় তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে রাতেই।

একদিকে যখন ইডি তল্লাশি অভিযানে নামছে তখন অন্যদিকে অর্পিতাকে জিজ্ঞাসাবাদ জারি রয়েছে। জেরার মুখে অর্পিতা বারবার একটাই কথা বলছেন, “টাকা আমার নয়, টাকা রেখেছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ফ্ল্যাট গুলিও তারই কিনে দেওয়া। টালিগঞ্জ ও বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাটে উদ্ধার ৫০ কোটি টাকা পার্থ চট্টোপাধ্যায়েরই।” ইডি সূত্রে খবর, সবমিলিয়ে মোট ১২০ কোটি টাকা রয়েছে। এখন পর্যন্ত ৫০ কোটির খোঁজ পাওয়া গেলেও এখনও অধরা ৭০ কোটি। আন্দাজ করা যাচ্ছে অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের অন্য ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালালে আরও টাকা উদ্ধার হবে।

গতকাল টাকার পাহাড়ের পাশাপাশি ইডি আধিকারিকরা এই ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করেছে ৪ কোটি ৩১ লক্ষ টাকার সোনা। ঠিক একই ভাবে অর্পিতার টালিগঞ্জের ফ্ল্যাট থেকে ২১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা এবং ৭৩ লক্ষ টাকার সোনা উদ্ধার করেছিল ইডি। গতকালের অভিযান মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৪৯ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। সাথে উদ্ধার করা হয়েছে ৫ কোটি ৪ লক্ষ টাকা মূল্যের সোনা।
চিনার পার্কের পর নয়াবাদে অর্পিতার ফ্ল্যাটের হদিশ, ৭০ কোটি খুঁজতে রাতেই অভিযানে ED

গতপরশু থেকেই অর্পিতা এবং পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে টানা জেরা করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাঁদের দাবি অর্পিতা তদন্তে কোঅপারেট করলেও একেবারেই সঙ্গ দিচ্ছেন না পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এদিকে দল-মন্ত্রিত্ব সব গেল পার্থর, তৃণমূল থেকেও সাসপেন্ড করা হয়েছে তাঁকে। শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির বৈঠকে পার্থ নিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সুব্রত বক্সী’। পার্থর অবদানের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। ‘এখন আবেগপ্রবণ হওয়ার সময় নয়, এটা রাজনৈতিক যুদ্ধ’। ‘এই রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যেতে হবে, জিততে হবে’, সুব্রত কে বলেন অভিষেক।



