নজরবন্দি ব্যুরোঃ টালিগঞ্জ বেলঘরিয়ার পর এবার চিনার পার্ক… তৈরি হোন, লক্ষ্মীবারে আজ আবার রাত জাগতে হতে পারে। টার্গেট চিনার পার্কে রয়েল রেসিডেন্সি আবাসন। বি ব্লকের ফোর্থ ফ্লোরে B404 অর্পিতার বিশাল ফ্ল্যাট। ইতিমধ্যেই সেখানে গেছে ইডি আধিকারিকরা। তাহলে আজ কি আবার খেলা হবে? ওই ফ্ল্যাটেরও চাবি পাওয়া যায়নি গতকাল বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাটের মত। ইডি সূত্রে খবর, দরজা ভাঙার তোড়জোড় চলছে।
আরও পড়ুনঃ নবান্ন থেকে সরিয়ে ফেলা হল পার্থর নেমপ্লেট, মহাসচিব পদ থেকেও সরাচ্ছে তৃণমূল।
ন’পাড়ার পূর্ব পাড়ায় রয়্যাল রেসিডেন্সির বি ব্লকের চারতলার একটি ফ্ল্যাটের মালিক অর্পিতা। দাবি ফ্ল্যাটের হিসাবরক্ষকের। তাঁর দাবি, ২০২০-র সেপ্টেম্বর থেকে । চলতি মাস পর্যন্ত ফ্ল্যাটের মেনটেন্যান্স বাবদ বাকি রয়েছে ৩৮ হাজার টাকা। আবাসন কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০১৭ সালে চিনার পার্কের কাছে প্রায় ৯০০ স্কোয়ার ফিটের এই ফ্ল্যাট কেনেন অর্পিতা। কালো রঙের মার্সিডিজে চড়ে ২০১৮-র সালের দুর্গাপুজোর সময় একবার মাত্র এসেছিলেন। দাবি আবাসন কর্তৃপক্ষের।
বুধবার দুপুরে বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে ঢোকেন ইডির তদন্তকারী অফিসারেরা। এর পর টাকা উদ্ধার করে গুনতে গুনতে পার ১৯ ঘণ্টা। বুধবার দুপুর থেকে শুরু করে বৃহস্পতিবার ভোর ৪টে পর্যন্ত চলে তল্লাশি অভিযান। বুধবার কেন্দ্রীয় আর্থিক তদন্তকারী সংস্থা ইডি অভিযানে নেমে অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বেলঘরিয়ার রথতলার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করেছে নগদ ২৭ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা।
টালিগঞ্জ বেলঘরিয়ার পর এবার চিনার পার্ক, আজ আবার রাত জাগতে হতে পারে।

টাকার পাহাড়ের পাশাপাশি ইডি আধিকারিকরা এই ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করেছে ৪ কোটি ৩১ লক্ষ টাকার সোনা। ঠিক একই ভাবে অর্পিতার টালিগঞ্জের ফ্ল্যাট থেকে ২১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা এবং ৭৩ লক্ষ টাকার সোনা উদ্ধার করেছিল ইডি। গতকালের অভিযান মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৪৯ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। সাথে উদ্ধার করা হয়েছে ৫ কোটি ৪ লক্ষ টাকা মূল্যের সোনা।

ইডি সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া সোনার মধ্যে বেশির ভাগই সোনার বাট ছিল। ১ কেজি করে তিনটি সোনার বাট উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হয়েছে বেশ কয়েকটি সোনার আংটি। এ ছাড়াও অর্পিতার বাড়ি থেকে সোনার মোটা হার, রকমারি সোনার গয়নাও উদ্ধার করা হয়েছে। ছ’টি মোটা মোটা সোনার কাঁকন (বালা) এবং কানের ঝোলা দুল। উদ্ধার হয়েছে বেশ কয়েকটি ছোট কানের দুল, কাঁকন এবং একটি সোনার পেন। ইডি আধিকারিকদের বাজেয়াপ্ত করা সোনার মধ্যে দেখা গিয়েছে দু’টি সোনার ঘড়িও।

সব মিলিয়ে পাওয়া গিয়েছে ৩ কেজি সোনার বাট, ২ কেজি গয়নার সঙ্গে সোনার মূর্তি, P লেখা সোনার আংটি, এক কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট এবং ২ টি সেক্স টয়!! গতপরশু থেকেই অর্পিতা এবং পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে টানা জেরা করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাঁদের দাবি অর্পিতা তদন্তে কোঅপারেট করলেও একেবারেই সঙ্গ দিচ্ছেন না পার্থ চট্টোপাধ্যায়।



