আফগানিস্তান (Afghanistan) ও পাকিস্তানের (Pakistan) সীমান্তে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেল। পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার কয়েক দিনের মধ্যেই পাল্টা অভিযানের দাবি করল আফগানিস্তানের তালিবান (Taliban) প্রশাসন। তাদের বক্তব্য, ডুরান্ড লাইন (Durand Line) পেরিয়ে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া (Khyber Pakhtunkhwa) এবং বালোচিস্তান (Balochistan)-এর একাধিক এলাকায় বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়ে ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রোভিন্স (Islamic State Khorasan Province – ISIS-K)-এর ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
আফগান সংবাদমাধ্যম টোলো নিউজ (TOLOnews)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই সামরিক অভিযানের কথা নিশ্চিত করেছে। তালিবান প্রশাসনের দাবি, সীমান্তের ওপারে থাকা আইএস-কে ঘাঁটিগুলি আফগানিস্তানের ভিতরে হামলার পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল। সেই কারণেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
তালিবানের দাবি, হামলাটি ছিল অত্যন্ত নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক। এতে একাধিক জঙ্গি নিহত হয়েছে এবং আইএস-কে-র পরিকাঠামো বড় ধাক্কা খেয়েছে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, অভিযানে কোনও সাধারণ নাগরিককে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি।
আফগান প্রশাসন আরও জানিয়েছে, দেশের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে যে কোনও ধরনের হুমকির জবাব একইভাবে দেওয়া হবে। সীমান্তের ওপারে সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি থাকলে প্রয়োজনে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও কড়া বার্তা দিয়েছে তারা।
এই পাল্টা হামলার পটভূমিতে রয়েছে গত রবিবার রাতে পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর অভিযান। আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তানের ওই এয়ারস্ট্রাইকে অন্তত ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। নিহতদের মধ্যে বহু শিশু ছিল বলেও দাবি করেছে আফগানিস্তান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের বিমানবাহিনী রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ পাকতিকা জ্ঞান, পাকতিকা চমকানি এবং কুনারের মারাওয়াড়া জেলায় ধারাবাহিক বোমাবর্ষণ চালায়। অভিযোগ, বসতবাড়ি ও একটি মসজিদও হামলার শিকার হয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রথম হামলার পর আহতদের উদ্ধারের কাজ চলাকালীন প্রায় ২৫ মিনিট পরে একই এলাকায় দ্বিতীয় দফায় বিমান হামলা চালানো হয়। সামরিক পরিভাষায় যাকে ‘ডাবল ট্যাপ’ (Double Tap Strike) কৌশল বলা হয়। এর ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ।
পাকিস্তানের সেই অভিযানের পরই পাল্টা সামরিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে দাবি তালিবান প্রশাসনের। তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আফগানিস্তানের এই হামলার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
সীমান্তের দুই দেশের মধ্যে চলতে থাকা এই সংঘাত দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের আশঙ্কা।






