নজরবন্দি ব্যুরোঃ গতবছরের আগস্টে গনি জামানার অবসান ঘটিয়ে ফের তালিবানি শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আফগানিস্তানে। তারপরেই দেশ ছাড়ার ধুম দেখা যায় সেখানকার নাগরিক ও অন্যান্য কর্মরতদের মধ্যে। সময় এগোনোর সাথে সাথেই নাগরিকদের জন্য জারি হয় একাধিক নিষেধাজ্ঞা। পরবর্তীতে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলি থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয় আফগান মহিলাদের। তবে এরপরেও সেখানকার পাহাড়ি এলাকায় স্ব-মহিমায় চলছে একটি স্কুল। যার অধিকাংশ পড়ুয়াই মহিলা।
আরও পড়ুনঃ Anish Khan: আনিস কাণ্ডে ধুন্ধুমার আমতায়, হাওড়া গ্রামীণের ডিজিকে তলব ভবানী ভবনে
শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। বর্তমানে গোটা দেশ জুড়ে তালিবদের বারবাড়ন্ত থাকলেও নিজের সংকল্পে অটল বছর বাইশের ফ্রেশতা। জানা গিয়েছে, ১২ বছর বয়সেই নাকি নিজের হাতে তৈরি করেছিলেন এই স্কুল। শিক্ষা সকলের কাছে পৌঁছে দিতেই নাকি ছোট্ট বয়স থেকে স্থানীয়দের নিয়ে চালু করেন তার স্কুল। সেকারণে আজও ঘণ্টা দুয়েকের জন্য বিবিধ বয়সের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে ক্লাস চালান ফ্রেশতা।
কিন্তু তালিবানি রাজত্বে আদৌ কতটা সহজ এই স্কুল চালানো? এই প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই আফগান তরুণী বলেন, ”আমার স্কুল ছিল অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক ও রঙিন। কিন্তু তালিবান যখন বামিয়ানে ঢুকে পড়ল আমার বন্ধুরা আমাকে সাবধান করে দিয়েছিল। আমি সব পোস্টার ও আঁকা ছবি যা টাঙানো ছিল সব খুলে ফেলি। আসলে সবাই ভয় পাচ্ছিল। একে তো আমি স্কুল চালাই। তার ওপরে মেয়েদের পড়াই। আমি সব পেন আর রং একটা ব্যাগে ভরে সামনের নদীতে ফেলে দিই।”
অদম্য ইচ্ছাশক্তি, তালিব শাসনের মাঝেও স্কুল চালাচ্ছে এক তরুণী
জানা গিয়েছে, এই স্কুল চালিয়ে আদৌ আহামরি কোন অর্থ পাননা তিনি। তবে যেটুকু অনুদান মেলে তা স্কুলের দেখভালের কাজেই লাগিয়ে দেন অদম্য ইচ্ছাশক্তির এই অধিকারিণী। এছাড়াও খাদ্যসঙ্কটে জেরবার গোটা আফগান প্রদেশ। তবুও খিদের জ্বালাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে স্কুলে আসে বহু পড়ুয়া।



