বাংলাদেশে সবাই হিন্দু বিরোধী হয়ে গেছে, এটি কল্পনা, বললেন অধীর চৌধুরী

কট্টরপন্থীদের তাণ্ডবের জেরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, কিন্তু সাধারণ মানুষ হিন্দু বিরোধী নয়—অধীরের দাবি

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর আক্রমণের খবর ক্রমাগত প্রকাশ্যে আসছে। কট্টরপন্থীদের কার্যকলাপে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী এই পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর দাবি, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কখনই হিন্দু বিরোধী নয়।

অধীর চৌধুরী বলেন: বাংলাদেশে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ হচ্ছে না। একটি মৌলবাদী গোষ্ঠী অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে। উদারপন্থী মুসলিমরাও একইভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন।

Shamim Ahamed Ads

অধীরের মতে, আজকের মৌলবাদী শক্তিগুলির উত্থান নতুন নয়। এই গোষ্ঠীই একসময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার জন্য দায়ী ছিল। এখন, তারা মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের অদক্ষতার সুযোগ নিয়ে বিভেদ সৃষ্টি করছে।

সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারির ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কট্টরপন্থীরা সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর আক্রমণ চালাচ্ছে। ভারত বিরোধী স্লোগান ও জাতীয় পতাকা অবমাননার ঘটনাও ঘটেছে।

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায় নির্যাতনের শিকার। কিন্তু অধীর চৌধুরীর মতে, এটি কিছু মৌলবাদী গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড। তিনি বলেন, “গোটা বাংলাদেশে হিন্দু বিরোধী মনোভাব তৈরি হয়নি। অস্থিরতার সুযোগে বিভেদ সৃষ্টি করা হচ্ছে।”

এই ঘটনার ফলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কেও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। কট্টরপন্থীদের কার্যকলাপ ও জাতীয় পতাকা অবমাননার মতো ঘটনা কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলছে। অধীর চৌধুরীর মন্তব্য এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি উভয় দেশের সাধারণ জনগণের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধের উপর জোর দেয়।

বাংলাদেশের অস্থিরতা নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের ভিন্ন ভিন্ন মতামত উঠে আসছে। অধীর চৌধুরীর বক্তব্য এই সংকটের পেছনে কট্টরপন্থীদের ভূমিকা তুলে ধরেছে, যা দুই দেশের শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত