‘৬০ লক্ষ ভোটার বিচারাধীন’, নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভোট ঘোষণা না করার দাবি! নির্বাচন কমিশনকে চিঠি অধীরের

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ার পর প্রকাশিত ভোটার তালিকায় প্রায় ৬০ লক্ষ নাম বিচারাধীন। এই মামলাগুলির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিধানসভা ভোট ঘোষণা স্থগিত রাখার দাবি জানালেন অধীররঞ্জন চৌধুরী।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। ভোটার তালিকায় বিপুল সংখ্যক নাম ‘বিচারাধীন’ অবস্থায় থাকায় ভোট ঘোষণার আগে সেই সব মামলার নিষ্পত্তির দাবি তুলল কংগ্রেস। এই মর্মে কেন্দ্রীয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখেছেন প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি ও বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরী।

চিঠিতে অধীররঞ্জন জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ার পর প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিচারাধীন তালিকায় রাখা হয়েছে। তাঁর দাবি, এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের অধিকার অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখে নির্বাচনের দিন ঘোষণা করা হলে বহু মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআর প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর এই বিষয়টি সামনে আসে। তালিকায় এত সংখ্যক ভোটারের নাম বিচারাধীন হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় প্রতিবাদে সরব হয় কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও এই নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন।

নির্বাচন কমিশনকে পাঠানো চিঠিতে অধীররঞ্জন লিখেছেন, দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রতিটি বৈধ ভোটারের মত প্রকাশের অধিকার সংবিধান স্বীকৃত। সেই অধিকার যাতে কোনওভাবেই খর্ব না হয়, তা নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ার ফলে লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম এখন ‘বিচারাধীন’ অবস্থায় আটকে রয়েছে।

অধীররঞ্জনের দাবি, এই পরিস্থিতিতে যতদিন না পর্যন্ত প্রতিটি বৈধ ভোটারের অধিকার নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং বিচারাধীন মামলাগুলির নিষ্পত্তি হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা করা উচিত নয়।

এই প্রসঙ্গে অধীর বলেন, ভোটার তালিকা থেকে কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ না যায়—এই দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করছে কংগ্রেস। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মতো পশ্চিমবঙ্গেও এই ইস্যুতে রাস্তায় নেমেছেন কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা। নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও প্রত্যাশিত পদক্ষেপ না মেলায় এবার সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত