১৯৯৯ সালে বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং ৯৫,৩৯১ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। সেই শুরু, এরপর ২০২৪ পর্যন্ত টানা জিতে আসছিলেন অধীর ওই একই কেন্দ্র থেকে। কিন্তু এবার যেন ইন্দ্র পতন। ভিন রাজ্যের ইউসুফ পাঠানের কাছে হেরে গেলেন বহরমপুরের টাইগার! পরাজয়ের পর থেকেই সামনে আসছে একাধিক খবর। অধীর চৌধুরী যে সাংসদ নির্বাচিত হয়ে রাজ্যসভায় যাচ্ছেন একথা প্রায় পাকা। কিন্তু কোন দলের সাংসদ হবেন তিনি? বড় প্রশ্ন এখন এটাই।
আরও পড়ুনঃ বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত আছে, জানিয়ে দিল আর এস এস


২০১৯ সালে মোদী ঝড়ে দেশজুড়ে কার্যত উড়ে যাওয়া কংগ্রেস তাঁকে লোকসভায় কংগ্রেস নেতা হিসাবে নির্বাচিত করে। ২০১৯ সালে দল রাহুল গান্ধীকে বোঝাতে ব্যর্থ হওয়ার পরে অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে এই কাজ দেয় কংগ্রেস হাইকমাণ্ড। ২৬ জুলাই ২০১৯ অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে পাবলিক অ্যাকাউন্টে সতেরোটি লোকসভা কমিটির চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ করা হয়। এহেন অধীর চৌধুরী কিনা ঘরে বসে থাকবেন নির্বাচন হেরে? এই প্রশ্ন থেকেই আসছে একাধিক সম্ভাবনার কথা।

২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে হাইকমান্ডের নির্দেশ কার্যত অমান্য করে রাজ্যে INDIA জোটে সামিল হয়নি প্রদেশ কংগ্রেস। অধীর তৃণমূলের বিরুদ্ধে জোট গড়ে তোলেন বামেদের সাথে। এদিকে শোনা যাচ্ছে নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার সময় থেকেই তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেস হাইকমাণ্ডের জোট প্রসঙ্গে প্রদেশ সভাপতির পদ ছাড়তে চেয়েছিলেন অধীর। সূত্রের খবর, মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে দল যখন নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে আলোচনা করছিল তখনই আমি পদ ছাড়তে চেয়েছিলাম। কিন্তু দল সেই আবেদন গ্রহণ করেনি। এখন তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন শেষ তাই এখন অব্যহতি চান দলের প্রদেশ সভাপতির কার্যভার সামলানো থেকে।


রাজ্যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে যতনা সরব হয়েছেন অধীর তাঁর ১০ শতাংশও বিজেপি বিরোধীতা শোনা যায়নি তাঁর মুখে। নির্বাচন চলাকালীন একটি জনসভায় যখন মমতা বন্দোপাধ্যায় ঘোষনা করেন, তৃণমূল INDIA জোট কে সমর্থন করবে, কিন্তু রাজ্যে অধীরের কারনে জোট হলনা তখন কংগ্রেস হাইকমান্ড সরাসরি ধমক দেয় অধীর বাবুকে। জানিয়ে দেওয়া হয়, পার্টি লাইন না মানলে বেরিয়ে যেতে হবে! সেই সময় ব্যাকফুটে থাকা অধীর কে কার্যত টোপ দেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। সরাসরি প্রস্তাব দেন, বিভীষণের বাড়ি(কংগ্রেস) ছেড়ে রামের(বিজেপি) বাড়িতে আসার। এখন অধীর পরাজিত, ভোট বিন্যাস দেখলে বোঝা যাবে, তিনি পরাজিত বিজেপির কারনেই। কিন্তু তবুও তাঁর জন্যে দরজা ভাল্ভাবে খুলে রেখেছে বিজেপি। সুকান্ত মজুমদার তাঁর হেরে যাওয়াতে দুঃখ প্রকাশ করেছেন, অধীর দা সম্বোধন করে।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ, রাজ্যসভাতেই অধীর, কিন্তু কোন দলের সাংসদ?

এবার আসা যাক মূল বক্তব্যে, সংসদীয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকা কার্যত অসম্ভব অধীর চৌধুরীর পক্ষে। এদিকে রাজ্যে ক্রমশ শুভেন্দুর নেতৃত্বে হাল খারাপ হচ্ছে বিজেপির। দিলীপ ঘোষ বাদ দিলে সেই অর্থে নেতা নেই যারা তৃণমূলের সঙ্গে সম্মুখ সমরে যেতে পারে। তাই ঘটনার মোড় ঘুরবে কোনদিকে, তা কেউ বলতে পারছেন না। যদিও বিজেপি সূত্রের একটি মন্তব্য, যেটা এখন লিখছি তা তোলপাড় ফেলতে পারে। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে যারা জয়ী হয়েছেন তাঁদের মধ্যে ১০ জন ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ। এই ১০ টি আসনের মধ্যে রয়েছে ত্রিপুরার বিপ্লব দেবের আসনটিও।
অন্যদিকে কংগ্রেস হাইকমাণ্ডের পক্ষ থেকে অধীর কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দিল্লীর বাংলো না ছাড়তে। সূত্রের খবর কংগ্রেস শিবিরও চাইছে অধীর চৌধুরীকে কোন একটি রাজ্য থেকে জিতিয়ে রাজ্যসভায় নিয়ে যেতে। এখন দেখার অধীর রঞ্জন চৌধুরী কি সিদ্ধান্ত নেন অবশেষে।








