কৃষক আন্দোলন নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা, সাংসদ সানি দেওল।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ কৃষক আন্দোলন নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা, বিজেপির সাংসদ সানি দেওল। পঞ্জাবের গুরুদাসপুরের সাংসদ বলেন, কৃষক আন্দোলন নিয়ে যেন অন্য দেশ মাথা না ঘামায়। কৃষক আন্দোলন পুরোপুরি এ দেশের কৃষক এবং সরকারের নিজস্ব বিষয়। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে সরকারের তরফে সমস্ত বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন সানি দেওল।

আরও পড়ুনঃ মহুয়ার “দুই পয়সার সাংবাদিক”, মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ প্রেস ক্লাবের

এসবের পাশাপাশি বিরোধীদের একহাত নিয়ে সানি দেওল আরও বলেন, সরকারের পাশাপাশি বেশ কিছু মানুষ আন্দোলন নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করছেন, তাঁরা নিজেদের স্বার্থের কথা ভেবেই এসব করছেন। ওই সব মানুষ কোনওভাবেই কৃষকদের কথা ভেবে কিছু করছেন না । সোমবার সানি দেওল নিজের ট্যুইটারে লেখেন, ‘আমি সবাইকে অনুরোধ করছি, কৃষক এবং কেন্দ্রের মধ্যে না আসতে। কারণ দুই পক্ষ আলোচনার পর একটি সমাধান নিশ্চয়ই খুঁজে পাওয়া যাবে।

আমি জানি অনেকেই এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চাইছেন। তাঁরা আসলে কৃষকদের কথা ভাবছেন না। তাঁদের নিজেদের স্বার্থ এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।’ পাশাপাশি, সানি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, তিনি কোনও ভাবেই দীপ সিধুর সান্নিধ্যে নেই। তাই দীপ যা বলবেন, তা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত মতামত। সানি তাঁর সঙ্গে কোনও ভাবেই জড়িত নন। তিনি আরও বলেন, ‘আমি সব সময় আমার দল এবং কৃষকদের পাশে রয়েছি। আমি জানি আমার দল কৃষকদের উন্নতির কথাই চিন্তা করবে এবং আমি নিশ্চিত কৃষকদের সঙ্গে আলোচনার পর সরকার তাঁদের জন্য সঠিক সিদ্ধান্তই নেবে।’

এই পোস্টটি থেকে স্বভাবতই আঁচ করা যায়, অভিনেতা তথা সমাজকর্মী দীপ সিধুর থেকে খানিক দূরত্ব বজায় রাখছেন সানি। কিন্তু কেন? তিনিও কৃষকদের এই আন্দোলনে তাঁদের পাশে থেকে যোগদান করেছিলেন। ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটের সময় গুরুদাসপুরে সানির হয়ে প্রচারেও নেমেছিলেন দীপ। খালিস্তান আন্দোলনের সমর্থক বলে পরিচিত সিধু এই কৃষক আন্দোলনের সময় ফের শিরেনামে আসেন। কৃষক আন্দোলন নিয়ে সম্প্রতি দলিজিত্ দোসাঞ্জের সঙ্গে কঙ্গনা রানাউতের বাকযুদ্ধ শুরু হয়। যা নিয়ে সরগরম হয়ে ওঠে সোশ্যাল মিডিয়া। কৃষক আন্দোলন নিয়ে কঙ্গনা কেন উল্টোপাল্টা মন্তব্য করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন করেন দিলজিত্।

কঙ্গনার সঙ্গে দিলজিত্-এর বাকযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ওই অভিনেতার ফলোয়ারের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে বলে জানা গেছে। প্রসঙ্গত, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে দিল্লির শাহিনবাগের বিলকিস বানো দাদিই আবার কৃষক আন্দোলনের মুখ হয়েছেন। ১০০ টাকা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে বিলকিস দাদিকে কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন কঙ্গনা। অভিনেত্রীর ওই মন্তব্যের পর ফুঁসে ওঠেন হরকম সিং নামে এক আইনজীবী। এমনকী, অভিনেত্রী ক্ষমা না চাইলে তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও করা হবে বলে জানিয়ে দেন হরকম সিং।

কৃষক আন্দোলন নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা, এরপরই কঙ্গনার সঙ্গে সরাসরি কৃষক আন্দোলন নিয়ে বাকযুদ্ধ শুরু হয় দিলজিত্-এর। এদিকে কৃষকদের পাশে কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপির কৃষিবিল নিয়ে কটাক্ষ করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ও।এপ্রসঙ্গে মমতা বলেন, “আপনারা ডাকলে আমিও আপনাদের আন্দোলনে শামিল হব।” বিজেপিকে তীব্র কটাক্ষ করে তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, বিজেপি শুধু এক নেতা, এক দল, একার রাজনীতি চায়। আর কিছু না। এই দেশটা আমাদের সবার। স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় ওঁরা কোথায় ছিল? দেশের সঙ্গে বেইমানি করেছে ওঁরা। আমি সম্পূর্ণভাবে কৃষকদের সঙ্গে আছি।”

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত