‘এটা জাতীয়তাবাদ নয়, প্রতারণা’, বাংলাদেশ নিয়ে জগন্নাথের মন্তব্যে বিজেপি কে তুলোধনা অভিষেকের

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দেওয়ার মন্তব্যে বিতর্কে জগন্নাথ সরকার। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একে ‘জাতীয়তাবাদের ছদ্মবেশে প্রতারণা’ বলে দাবি করলেন, চান সাংসদকে অবিলম্বে বহিষ্কার।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নিয়ে বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকারের মন্তব্যে তীব্র রাজনৈতিক ঝড় উঠেছে রাজ্যে। নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের এক সভায় তিনি ঘোষণা করেন, “২০২৬ সালে বিজেপি ক্ষমতায় এলে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া তুলে দেওয়া হবে।” তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত রাজনীতি শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে।

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করে বলেছেন, “এটা জাতীয়তাবাদ নয়, প্রতারণা।” তিনি আরও দাবি করেন, বিজেপি নেতৃত্বের নীরবতা প্রমাণ করছে, এই মন্তব্য দলের শীর্ষ স্তরের অনুমতি নিয়েই করা হয়েছে।

শনিবার সকালে X (টুইটার)-এ এক পোস্টে অভিষেক লেখেন, “বিজেপির নেতৃত্বে ভণ্ডামি এক অন্য মাত্রায় পৌঁছে গিয়েছে। রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার বলেছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে ভারত ও বাংলাদেশ এক হয়ে যাবে! যদি বিজেপি সত্যিই ভারতের সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে, তাহলে অবিলম্বে তাঁকে বহিষ্কার করা উচিত।”

জগন্নাথ সরকারের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিজেপির নীরবতা নিয়েও কটাক্ষ করেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, “বিজেপি একদিকে সীমান্ত রক্ষায় জমি না দেওয়ার অভিযোগ তোলে, আবার অন্যদিকে দলের সাংসদ দেশের সীমান্তই মুছে দেওয়ার হুমকি দেন! এটা কী ধরনের জাতীয়তাবাদ?”

তৃণমূল নেতা আরও বলেন, “এটাই বিজেপির আসল মুখ—ভণ্ডামি ও প্রতারণার মিশ্রণ। দেশের সার্বভৌমত্বের নামে ভোটের রাজনীতি করছে বিজেপি।”

এই মন্তব্যের জেরে সামাজিক মাধ্যমেও শুরু হয়েছে প্রবল সমালোচনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জগন্নাথ সরকারের মন্তব্য ভারতের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক নীতির পরিপন্থী, যা দলের ভেতরেও অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে সীমান্ত সুরক্ষার জন্য ভূমি না দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। অথচ তাঁদেরই দলের সাংসদ সীমান্ত তুলে দেওয়ার কথা বলছেন! বিজেপির ভণ্ডামি এখন সর্বজনবিদিত।”

তৃণমূলের তরফে ইতিমধ্যেই দাবি উঠেছে, বিজেপি যদি সত্যিই জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী হয়, তবে অবিলম্বে জগন্নাথ সরকারকে দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণ শুধু বিজেপির বক্তব্যের প্রতিবাদ নয়, বরং জাতীয় রাজনীতিতেও বার্তা দেওয়ার প্রচেষ্টা—বাংলার তৃণমূল ভারতের সার্বভৌমত্বের পক্ষে এবং বিভাজনের বিরুদ্ধে।

বর্তমানে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব এই বিতর্কে মুখ না খোলায় রাজনৈতিক মহল মনে করছে, দলীয়ভাবে জগন্নাথ সরকারের মন্তব্য নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছে গেরুয়া শিবির।

এই ঘটনায় বিজেপি–তৃণমূলের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হচ্ছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত