‘লুকোনোর কিছু না থাকলে সরাসরি সম্প্রচার করুন’— ৩১ তারিখের বৈঠক নিয়ে কমিশনকে চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা প্রশ্নে তোপ অভিষেকের; ৩১ ডিসেম্বর দিল্লিতে বৈঠক, সরাসরি সম্প্রচারের চ্যালেঞ্জ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ঘিরে উত্তাল রাজনীতি। নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে ৩১ ডিসেম্বর দিল্লিতে বৈঠকের কথা ঘোষণা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তাঁর সোজাসুজি চ্যালেঞ্জ—“লুকোনোর যদি কিছু না থাকে, তা হলে বৈঠক সরাসরি সম্প্রচার করুক কমিশন।”

অভিষেকের বক্তব্য, কমিশনের শীর্ষ আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমার-কে বুঝতে হবে তিনি ভারত সরকারের নন, ভারতের নির্বাচন কমিশনার। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাংলাকে আলাদা করে নিশানা করা হচ্ছে, অথচ অন্য রাজ্যগুলিতে একই সময়ে চলা সংশোধনে অতটা কড়াকড়ি বা নজরদারি নেই।

এসআইআর নিয়ে রাস্তায় নামার ঘোষণা করে অভিষেক জানান, ২ জানুয়ারি থেকে টানা এক মাস জনসংযোগে থাকবেন তিনি। ক্ষমতায় না এসেই যদি বিরোধীরা ব্রিগেডে গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে চিকেন প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধর করতে পারে, তবে ক্ষমতায় এলে কী করবে—এই প্রশ্নও তোলেন তিনি। পাশাপাশি হাই কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় বকেয়া টাকা আটকে রাখার অভিযোগে বিজেপিকে আক্রমণ করেন তৃণমূল নেতা।

‘লুকোনোর কিছু না থাকলে সরাসরি সম্প্রচার করুন’— ৩১ তারিখের বৈঠক নিয়ে কমিশনকে চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
‘লুকোনোর কিছু না থাকলে সরাসরি সম্প্রচার করুন’— ৩১ তারিখের বৈঠক নিয়ে কমিশনকে চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

কেন্দ্রীয় বঞ্চনা প্রসঙ্গে অভিষেকের প্রশ্ন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ যাঁদের ভোট দিয়ে বিজেপি বিধায়ক-সাংসদ বানিয়েছেন, তাঁরা কেন কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের পাওনা নিয়ে একটিও প্রশ্ন তোলেন না? তাঁর কটাক্ষ—“বিজেপি শুধু বোনাসের রাজনীতি, ধর্মের রাজনীতি আর নাম বাদ দেওয়ার রাজনীতি করে।”

এসআইআর শুনানি নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন অভিষেক। অভিযোগ, পরিকল্পনাহীন শুনানিতে বয়স্ক মানুষদের হেনস্থা করা হচ্ছে। কমিশন বিজেপির নির্দেশেই চলছে বলেও দাবি তাঁর। তালিকা প্রকাশ না হলে কমিশন ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

এসআইআর-এ ‘লজিক্যাল ডিসক্রিমেন্সি’ ইস্যুতে আরও তীব্র আক্রমণ শানিয়ে অভিষেক বলেন, ১ কোটি ৩৬ লক্ষ নাম বাতিল বা ত্রুটিপূর্ণ হলে তার পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। এক কোটি রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশি থাকলে তারও তালিকা প্রকাশ করা হোক—নইলে কমিশনকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। তাঁর দাবি, একই দিনে কী ভাবে খসড়া তালিকা আর লজিক্যাল ডিসক্রিমেন্সির তথ্য বেরোল—তার ব্যাখ্যা নেই। সফটওয়্যারের ত্রুটি স্বীকার করা চ্যাটের স্ক্রিনশট সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এসআইআর-এ সময়সীমা বাড়ানো না হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। তাঁর যুক্তি, তামিলনাড়ু, গুজরাত, ছত্তীসগঢ়ের মতো রাজ্যে একই প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়লেও সময়সীমা ও ব্যবস্থাপনায় ভিন্নতা দেখা গিয়েছে। তাহলে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই বা ব্যতিক্রম কেন?

সবশেষে নির্বাচন কমিশনকে ‘হোয়াট্‌সঅ্যাপ কমিশন’ বলে কটাক্ষ করেন অভিষেক। তাঁর দাবি, কোনও অফিসিয়াল প্রেস রিলিজ ছাড়াই হোয়াট্‌সঅ্যাপে তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। ভোটার তালিকা পরিষ্কার করতে চাইলে নাম লুকোনোর প্রয়োজন কী—এই প্রশ্ন রেখেই ৩১ ডিসেম্বর দিল্লিতে গিয়ে কমিশনের মুখোমুখি হওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন