হাই কোর্ট ছাত্রদের অন্ধকারে ঠেলে দিতে চেয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টে তা আটকেছি: অভিষেক

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসে মেয়ো রোডের সভায় বিজেপি, হাই কোর্টের ভূমিকা ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসে বৃহস্পতিবার কলকাতার মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে বিশাল সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে হাজির ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই তিনি রাজনীতি, শিক্ষা, বিচারব্যবস্থা ও কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।

অভিষেকের অভিযোগ, কলকাতা হাই কোর্টের একাংশ বাংলার ছাত্রদের জীবন অন্ধকারে ঠেলে দিতে চেয়েছিল। দ্বাদশ শ্রেণির ফল প্রকাশের পর বহু শিক্ষার্থীর ভর্তি প্রক্রিয়া আটকে গিয়েছিল। তিনি দাবি করেন, “আমাদের কাছে দুর্ভাগ্যের, যে বাংলার সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে গিয়ে হাই কোর্টের বিচারব্যবস্থার একাংশ ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমরা সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে তা আটকেছি। স্থগিতাদেশ পাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই সরকার ভর্তি প্রক্রিয়া চালু করেছে।”

বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ

সভায় অভিষেক তীব্র আক্রমণ শানান বিজেপিকে লক্ষ্য করে। তিনি বলেন, “বিজেপি ধমক, চমক, ভয় দেখিয়ে বাংলাকে দমাতে চাইছে। বাংলার ইতিহাসই লড়াইয়ের ইতিহাস, তাই বশ্যতা স্বীকার করবে না।”

তাঁর অভিযোগ, বিজেপি বাংলার কৃষক, দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের প্রাপ্য অর্থ আটকে দিয়েছে। জল জীবন মিশন, আবাস যোজনা ও গ্রামীণ সড়ক যোজনার হাজার হাজার কোটি টাকা আটকে রেখে বাংলাকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।

বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির অপমান প্রসঙ্গে ক্ষোভ

অভিষেক বলেন, বিজেপি বাংলাকে পদে পদে অপমান করেছে। “বাংলা বলে কোনও ভাষা নেই, বাঙালি বলে কোনও জাতি নেই— এই অপমান সহ্য করবে না বাংলার মানুষ।” তিনি রবীন্দ্রনাথ, বিদ্যাসাগর, নেতাজি থেকে ক্ষুদিরাম— বাঙালি মনীষীদের নাম উল্লেখ করে প্রশ্ন করেন, তাঁরা কোন ভাষায় কথা বলতেন?

১০ কোটি বঙ্গবাসীর জন্য লড়াই

অভিষেক মনে করিয়ে দেন, ১০০ দিনের কাজের টাকার জন্য তৃণমূল লড়াই করেছে। মুখ্যমন্ত্রী ৬৯ লক্ষ জব কার্ডহোল্ডারের পাওনা মিটিয়েছেন। তিনি বলেন, “যদি ৬৯ লক্ষ মানুষের জন্য লড়তে পারি, তবে ১০ কোটি বঙ্গবাসীকে বাংলাদেশি বলার অপমানের বিরুদ্ধে আরও জোরদার লড়াই করব।”

কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি ও ভোটাধিকার নিয়ে ক্ষোভ

অভিষেক অভিযোগ করেন, রাতের অন্ধকারে কেন্দ্রীয় সরকার সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করিয়েছে, যাতে মানুষের মৌলিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “আগে মানুষ সরকার বেছে নিত, এখন সরকার ভোটার বেছে নিচ্ছে। যদি এক জনের ভোটাধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়, তৃণমূল ১০ লক্ষ মানুষ নিয়ে দিল্লি ঘেরাও করবে।”

আরজি কর-কাণ্ড ও অপরাজিতা বিল প্রসঙ্গ

সভায় উঠে আসে আরজি কর হাসপাতালের নারকীয় ঘটনার প্রসঙ্গও। অভিষেক জানান, এক বছর কেটে গেলেও সিবিআই এখনও তদন্ত শেষ করতে পারেনি। অপরাজিতা বিলও পাশ হয়নি। তাঁর প্রশ্ন, “যাঁরা তখন রাস্তায় নেমেছিলেন, আজ তাঁরা কোথায়?”

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন