শুভেন্দুকে ক্ষমা চাইতে ৩৬ ঘণ্টা সময়, আইনি নোটিশে কুরুচিকর আক্রমণের জবাব অভিষেকের।

শুভেন্দুকে ক্ষমা চাইতে ৩৬ ঘণ্টা সময়, আইনি নোটিশে কুরুচিকর আক্রমণের জবাব অভিষেকের।

নজরবন্দি ব্যুরো: শুভেন্দুকে ক্ষমা চাইতে ৩৬ ঘণ্টা সময়, আইনি নোটিশে কুরুচিকর আক্রমণের জবাব দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মুহূর্তে বাংলার রাজনীতি রাজনীতির পর্যায় ছড়িয়ে চলে গেছে ব্যক্তিগত পর্যায়ে। মানুষ রাজনীতির সাথে ব্যাক্তি মানুষকে জড়িয়ে বলে যাচ্ছেন হাজার কথা। তার মধ্যে সবথেকে জরুরি বিষয় হলো এই মুহূর্তে বাংলায় আসন্ন ২১ এর বিধানসভা নির্বাচন। আর নবান্ন দখলের এই লড়াইয়ে শুরু হয়েছে দলবদলে খেলা। তাতে আজ যে একদলের সতীর্থ কাল সে অন্যদলের। তাতেই শুরু হয়েছে ব্যক্তিগত কাদা ছোড়াছুড়ি।

আরও পড়ুনঃ উদ্বাস্তুদের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর উপহার, কাউকে উচ্ছেদ না করার নির্দেশ দিয়ে প্রায় ৩ লক্ষ পাট্টা ঘোষণা।

বাবুল সুপ্রিয়র পর এবার শুভেন্দু অধিকারীকে আইনি নোটিস পাঠালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী সঞ্জয় বসু। ২০১৭ তে এবং চলতি বছরেও বাবুল সভা মঞ্চ থেকে অভিষেক বন্দোপাধ্যায় কে কয়লা সিন্ডিকেট থেকে তোলাবাজ বলে মিথ্যে অপবাদ দেন। এবার ভরা সভামঞ্চ থেকে অভিষেককে কটাক্ষ করেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তারই জেরে আজ শুভেন্দু অধিকারীকে আইনি নোটিস পাঠান অভিষেকের আইনজীবী সঞ্জয় বসু।

গতমাস পর্যন্ত শুভেন্দু অধিকারী ছিলেন তৃণমূলের প্রথম সারির নেতা। দলবদলের পর থেকেই তৃণমুলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ প্রকাশ করতে থাকেন শুভেন্দু। তারপরই সেই অভিযোগ চলে যায় ব্যাক্তিগত আক্রমনের স্তরে। গত ১৯ সে জানুয়ারি শুভেন্দু অধিকারী ভোট পূর্ব সভা করেন খেজুরিতে। সেখান থেকে তিনি দুর্নীতির অভিযোগ এনে অভিষেককে তোলাবাজ বলে আক্রমণ করেছিলেন। শুধু তাই নয় ওইদিনই অধিকারীর ইন্টারভিউ ছিল এবিপি আনান্দের প্ল্যাটফর্মে। সেখানেও একই কথার পুনরাবৃত্তি ঘটান তিনি। বার বার নানা জায়গা থেকে অভিষেককে ব্যক্তিগত স্তরে মিথ্যে আক্রমণ করার জন্য আজ শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে আইনি নোটিস পাঠালেন অ্যাডভোকেট সঞ্জয় বসু।

আইনজীবী সঞ্জয় বসু শুভেন্দু অধিকারীকে যে নোটিস পাঠিয়েছেন তাতে স্পষ্ট ভাবে তিনি তাঁর মক্কেল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে করা মিথ্যে এবং কুরুচিকর মন্তব্যের জন্য ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার কথা জানিয়েছেন। সঞ্জয় বসু তাঁর নোটিশে ক্ষমা চাওয়ার কারণ হিসেবে স্পষ্ট ভাবে ৪ টি পয়েন্টও উল্লেখ করেছেন।
প্রথমত তাঁর মক্কেল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘ তোলাবাজ’ বলে ভরা সভামঞ্চ থেকে বারবার অপমান করেছেন অধিকারী।
দ্বিতীয়ত, বাবুল সুপ্রিয়র মতো শুভেন্দু ও অভিষেক এর নামে একাধিক মিথ্যে অপবাদ দিচ্ছেন, যেমন , বলি,কয়লা,এমনকি কিডনি পাচারের মত জঘন্য কাজের সঙ্গে নাম জড়িয়ে বলছেন
তৃতীয়ত, একজন নেতা হয়ে কী করে তিনি বারবার অভিষেক কে রাজনীতির জগতে ‘ ব্যর্থ’ বলেন সেই কারণেও ক্ষমা চাইতে হবে অধিকারীকে
এবং চতুর্থত জেলবন্দী কে ডি সিং-এর সাথে অভিষেকের যোগাযোগ আছে বলে দাবি করছেন শুভেন্দু।

মিথ্যে এবং ভিত্তিহীন এসব মন্তব্যের জন্য শুভেন্দু অধিকারী কে ক্ষমা চাইতে হবে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে। দীর্ঘ নোটিসে সঞ্জয় বসু স্পষ্ট ভাবে এও জানিয়েছেন বেশ কয়েক বছর ধরে রাজনীতির জগতে একে ওপরের সহকর্মী এবং সতীর্থ ছিলেন শুভেন্দু এবং অভিষেক। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি যোগের পর অধিকারী হঠাৎ কিভাবে এইসব মন্তব্য করছেন। শুধু তাই নয় নোটিসে সঞ্জয় বসু শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে ওঠা সারদা নারদা কাণ্ডের দুর্নীতির কথা উল্লেখ করেন এবং নোটিসের সাথে সেসবের উপযুক্ত প্রমাণ ও দেন।

অভিষেক একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ডায়মন্ড হারবারের সংসদ। সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ করেন এবং একজন জন – প্রতিনিধি। এভাবে জনসমক্ষে বারবার অভিষেকের বিরুদ্ধে প্রমাণ ছাড়া মিথ্যে কুরুচিকর মন্তব্যের জন্য আইনজীবী সঞ্জয় বসু ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার নোটিস দিয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী কে। নোটিসে সঞ্জয় বসু এও জানিয়েছেন, ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা না চাইলে অভিষেক এর পক্ষ থেকে মানহানির মামলা করা হবে অধিকারীর বিরুদ্ধে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x