অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-এর উদ্যোগে পরিচালিত ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরকে ঘিরে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে এবার কড়া বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। অভিযোগগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিষয়টি পুলিশের তদন্তের আওতায় রয়েছে। যদি কোনও অপরাধের প্রমাণ মেলে, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
বুধবার জোকা (Joka)-য় ভারত সেবাশ্রম সংঘ (Bharat Sevashram Sangha)-এর হাসপাতালের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার এবং জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা।
সেখানে ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, অভিযোগ তাঁর নজরে এসেছে এবং সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার (SP) তদন্ত করবেন। তাঁর কথায়, “অভিযোগ এসেছে, আমি শুনেছি। জেলা পুলিশ সুপার তদন্ত করবেন। এটা ক্রাইম। পুলিশ দেখছে। তদন্তে পুলিশকে যা সহযোগিতা করার, স্বাস্থ্য দফতর ও জেলাশাসকরা করবেন।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, তদন্তে যদি কোনও ফৌজদারি অপরাধের প্রমাণ সামনে আসে, তাহলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (Bharatiya Nyaya Sanhita)-র সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য, “আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে। ক্রাইম হলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় যা করার, তাই করা হবে।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কিছু শিবিরে ভুয়ো চিকিৎসকের মাধ্যমে রোগী দেখানো, ওষুধ বিতরণে অনিয়ম এবং অন্যান্য প্রশাসনিক অসঙ্গতির মতো একাধিক বিষয় সামনে এসেছে। যদিও এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও সরকারি তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী ভারতীয় জনতা পার্টি (Bharatiya Janata Party)-সহ বিভিন্ন মহল থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর প্রকাশ্য মন্তব্য এবং পুলিশি তদন্তের নির্দেশ রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
রাজনৈতিক মহলের মতে, যেহেতু মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তদন্তের কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, তাই নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের গতি আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে অভিযোগকারীদের একাংশও আশাবাদী যে, সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে।
তবে তদন্ত এখনও প্রক্রিয়াধীন। ফলে অভিযোগের সত্যতা, দায় নির্ধারণ এবং সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ—সবই নির্ভর করবে তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত রিপোর্টের উপর।






