শিয়ালদহ স্টেশনে চালু ডিজিটাল লাগেজ লকার, নিরাপদে মালপত্র রেখে নিশ্চিন্তে ঘুরতে পারবেন যাত্রীরা

পূর্ব রেলের উদ্যোগে শিয়ালদহ স্টেশনে শুরু হল ডিজিটাল লাগেজ লকার পরিষেবা। অনলাইনে বুকিং, ওটিপি যাচাই ও কিউআর কোডের মাধ্যমে নিরাপদে লাগেজ রাখার আধুনিক সুবিধা মিলবে যাত্রীদের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

শিয়ালদহ (Sealdah) স্টেশনে যাত্রী পরিষেবায় বড় পদক্ষেপ নিল পূর্ব রেল (Eastern Railway)। এবার স্টেশনে চালু হয়েছে অত্যাধুনিক ডিজিটাল লাগেজ লকার ব্যবস্থা। এই স্বয়ংচালিত পরিষেবার মাধ্যমে যাত্রীরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিরাপদে নিজেদের ব্যাগ বা লাগেজ রেখে স্টেশনের বাইরে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে আবার সহজেই তা সংগ্রহ করতে পারবেন। বিদেশের আধুনিক রেলস্টেশনের আদলে তৈরি এই পরিষেবা যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুবিধা—দুইই বাড়াবে বলে মনে করছে রেল কর্তৃপক্ষ।

স্টেশন সূত্রে জানা গিয়েছে, শিয়ালদহ স্টেশনের ১২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের সামনে এই ডিজিটাল লকার বসানো হয়েছে। পুরো ব্যবস্থাই স্বয়ংক্রিয় (Self-operated), ফলে কোনও কর্মীর সাহায্য ছাড়াই যাত্রীরা নিজেরাই লকার বুক ও ব্যবহার করতে পারবেন।

লকার বুক করতে হলে প্রথমে সেখানে থাকা ইলেকট্রনিক স্ক্রিনে নিজের মোবাইল নম্বর দিতে হবে। এরপর মোবাইলে আসা ওটিপি (OTP) স্ক্রিনে প্রবেশ করানোর পর নাম এবং ই-মেল আইডি দিতে হবে। তারপর যাত্রী নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী লকারের আকার নির্বাচন করতে পারবেন।

লাগেজের মাপ অনুযায়ী তিন ধরনের লকার রাখা হয়েছে—‘মিডিয়াম’, ‘লার্জ’ এবং ‘এক্সট্রা লার্জ’। পাশাপাশি লকার ব্যবহারের সময়ও তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে—৬ ঘণ্টা, ১২ ঘণ্টা এবং ২৪ ঘণ্টা। ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী সময় ও লকারের ধরন বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ভাড়ার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট কাঠামো রাখা হয়েছে। ‘মিডিয়াম’ লকারের জন্য ৬ ঘণ্টার ভাড়া ৭৫ টাকা এবং ২৪ ঘণ্টার জন্য ১৫০ টাকা। ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় লাগেজ রাখতে চাইলে প্রতি অতিরিক্ত ৬ ঘণ্টার জন্য ৭৫ টাকা করে দিতে হবে।

অন্যদিকে ‘লার্জ’ লকারের জন্য ৬ ঘণ্টার ভাড়া ১২০ টাকা এবং ২৪ ঘণ্টার জন্য ২৪০ টাকা। নির্ধারিত সময়ের পর প্রতি অতিরিক্ত ৬ ঘণ্টার জন্য ১২০ টাকা করে চার্জ প্রযোজ্য হবে। আর ‘এক্সট্রা লার্জ’ লকারের ক্ষেত্রে ৬ ঘণ্টার ভাড়া ১৮০ টাকা, ২৪ ঘণ্টার জন্য ৩৬০ টাকা এবং অতিরিক্ত প্রতি ৬ ঘণ্টার জন্য ১৮০ টাকা করে দিতে হবে।

সময় নির্বাচন করার পর স্ক্রিনে একটি কিউআর (QR) কোড প্রদর্শিত হবে। সেই কোড স্ক্যান করে অনলাইনে ভাড়া মিটিয়ে দিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে লকার খুলে যাবে। লাগেজ সংগ্রহের সময় আবার মোবাইল নম্বর দিয়ে ওটিপি যাচাই করলেই লকার খুলে যাবে।

রেল কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, বুকিং চলাকালীন নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেও প্রয়োজনে যাত্রীরা লকার খুলে কিছু মালপত্র বের করতে পারবেন। আবার যদি বুক করা সময়সীমা অতিক্রম হয়ে যায়, তাহলে অতিরিক্ত সময়ের জন্য কিউআর কোড স্ক্যান করে অনলাইনে বাড়তি ভাড়া পরিশোধ করার পরই লকার খোলা যাবে।

যাত্রীদের নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা এবং ঝামেলাহীন পরিষেবা নিশ্চিত করতে এই ডিজিটাল লাগেজ লকার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ব্যস্ত শহর কলকাতার অন্যতম বৃহৎ রেলস্টেশন শিয়ালদহে এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও আধুনিক যাত্রী পরিষেবার পথ প্রশস্ত করবে বলেই মনে করছে পূর্ব রেল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন