আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রণসংকল্প যাত্রার মঞ্চকে কার্যত নীতিনির্ধারণী ঘোষণার প্ল্যাটফর্মে বদলে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee। পুরুলিয়ার সভা থেকে একদিকে যেমন বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ শানালেন, তেমনই ভোটের আগে রাজ্যবাসীর জন্য একাধিক বড় আশ্বাস ও সময়সীমাবদ্ধ প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি।
পুরুলিয়ার সভামঞ্চ থেকেই অভিষেক ঘোষণা করেন, আজ থেকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার আরও ২০ লক্ষ মানুষকে আবাসের বাড়ি দেবে। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে টাকা আটকে রাখার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “কেন্দ্র টাকা আটকে রেখেছে। কিন্তু আমাদের সরকার মানুষের পাশে এসে দাঁড়াবে।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, ভোটের আগে গৃহহীনদের আশ্বাস দিতে কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না শাসকদল।
এর পর পুরুলিয়াবাসীর উদ্দেশে সরাসরি বার্তা দিয়ে অভিষেক বলেন, “এই জেলার একাধিক ব্লকে আপনাদের অনেক দাবি রয়েছে। সব তথ্য আমি সংগ্রহ করে রেখেছি। পুরুলিয়া ৯-০ হবে, আর সেই দাবিগুলি ৬ মাসের মধ্যেই পূরণের চেষ্টা করব—এই কথা দিয়ে যাচ্ছি।” মানুষের ভালোবাসাকে দায়বদ্ধতায় পরিণত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
সভা থেকে দলের অন্দরের অসন্তোষ নিয়েও কড়া অবস্থান নেন তৃণমূল সাংসদ। স্থানীয় নেতাদের উদ্দেশে পরোক্ষে বার্তা দিয়ে অভিষেক বলেন, “তৃণমূলের কোনও স্থানীয় পদাধিকারী যদি বিরূপ আচরণ করেন, এক ডাকে আমাকে জানাবেন। তার জন্য আমি ক্ষমা চেয়ে নেব। কিন্তু তার জেরে দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন না।” একই সঙ্গে তিনি আহ্বান জানান, ২০২৬ সালের ভোটে সরাসরি Mamata Banerjee-কেই ভোট দিতে।
বিরোধী বিজেপি শিবিরকেও একহাত নেন অভিষেক। নাম না করে Sukanta Majumdar ও Suvendu Adhikari-কে কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য, “আজ এখানে এসে ওঁরা জ্ঞান দিচ্ছেন। জেনে রাখুন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না থাকলে মাওবাদী আর বামেদের অত্যাচারে মানুষ আজও শান্তিতে থাকতে পারত না।” তাঁর দাবি, রাজ্যে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরেছে বলেই আজ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বাংলায় এসে বড় বড় কথা বলছে।


ভোটের মুখে পুরুলিয়ার মঞ্চ থেকে দেওয়া এই ঘোষণাগুলি যে তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তা স্পষ্ট করে দেন অভিষেক। সময়সীমা বেঁধে প্রতিশ্রুতি, দলের ভিতরের শৃঙ্খলার বার্তা এবং বিরোধীদের বিরুদ্ধে আক্রমণ—সব মিলিয়ে পুরুলিয়ার সভা থেকেই যুদ্ধঘোষণা করে দিল শাসক শিবির।










