উত্তরবঙ্গের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময়ে ফের একবার মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (WBSDMA) তহবিলে ১ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছেন।
সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাণহানি, গৃহহানি ও জীবিকা হারিয়ে দিশেহারা বহু মানুষ। এই পরিস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্রুত সহানুভূতির প্রতিক্রিয়া বাংলাজুড়ে প্রশংসা কুড়োচ্ছে।


নিজের এক্স (X) হ্যান্ডেলে অভিষেক লেখেন,
“অপ্রত্যাশিত বন্যা ও ভূমিধসে উত্তরবঙ্গের বহু এলাকা বিপর্যস্ত। প্রাণ ও সম্পত্তির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার WBSDMA তহবিলে অনুদানের আহ্বান জানিয়েছে যাতে উদ্ধার, ত্রাণ ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন কার্যক্রমে সহায়তা করা যায়। আমি আমার রাজ্যের মানুষের পাশে দাঁড়াতে ১ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছি। এই কঠিন সময়ে প্রতিটি সহানুভূতির কাজ গুরুত্বপূর্ণ। সকলকে উদারভাবে সাহায্যের হাত বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।”
অভিষেকের এই মানবিক বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে গোটা রাজ্যে। তৃণমূলের বিভিন্ন স্তরের নেতা-নেত্রীরাও তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে অনুদান দিয়েছেন। সাংসদ মহুয়া মৈত্র, সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি প্রকাশ চিক বড়াইক প্রত্যেকে ১ লক্ষ টাকা করে WBSDMA তহবিলে দিয়েছেন।
দলের ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, অভিষেকের এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, বরং এক সাংবেদনশীল নাগরিকের মানবিক প্রতিশ্রুতি। উত্তরবঙ্গের মানুষ দুর্যোগে যখন অসহায়, তখন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই উদ্যোগ স্থানীয় প্রশাসনের পাশে এক বিশাল শক্তি হিসেবে কাজ করবে।


উত্তরবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং-সহ একাধিক জেলা বন্যায় বিপর্যস্ত। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের জেরে রাস্তাঘাট বন্ধ, ভেসে গিয়েছে বহু ঘরবাড়ি। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নেমেছে, সেনা ও এনডিআরএফ দলও সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বান শুধু অনুদান নয়, বরং সামাজিক সংহতির এক প্রতীক। তাঁর বার্তা এখন বহু সাধারণ মানুষ ও সংস্থাকে অনুপ্রাণিত করছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “অভিষেকের এই পদক্ষেপ দেখিয়ে দিল, রাজনীতির ঊর্ধ্বে গিয়ে তিনি মানবিকতার রাজনীতি করছেন।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, তৃণমূল নেতৃত্বের এই একযোগে উদ্যোগ উত্তরবঙ্গের মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃত্বের সহায়তা রাজ্যের পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে।
উত্তরবঙ্গের এই সংকটময় মুহূর্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদক্ষেপ প্রমাণ করল, সহানুভূতি ও নেতৃত্ব—দুটি একসঙ্গে চললে রাজনীতি মানবিক হয়।








