তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) আইনি সঙ্কট আরও ঘনীভূত হল। কৈলাস বিজয়বর্গীয়কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে দায়ের হওয়া মানহানি মামলায় মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার উপর দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেছে বলে খবর। ফলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা নতুন করে জোরালো হয়েছে।
সূত্রের খবর, বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়কে রাজনৈতিক সভা থেকে ‘গুন্ডা’ বলে উল্লেখ করেছিলেন অভিষেক। সেই অভিযোগে কৈলাসের ছেলে আকাশ বিজয়বর্গীয় ভোপালের এমপি-এমএলএ আদালতে মানহানির মামলা দায়ের করেন।
মামলার শুনানির জন্য একাধিকবার আদালতের তরফে সমন পাঠানো হলেও অভিষেক হাজিরা দেননি বলে অভিযোগ। এরপর আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। সেই পরোয়ানাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তৃণমূল সাংসদ।
প্রথম পর্যায়ে হাই কোর্ট পরোয়ানার উপর স্থগিতাদেশ দিলেও বুধবার সেই সুরক্ষা তুলে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর ফলে মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত এগোতে পারে বলে মনে করছেন আইনজীবীদের একাংশ।
গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিকভাবে চাপে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর দলের অন্দরে তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। কালীঘাটে দলীয় বৈঠকেও একাধিক নেতা প্রকাশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
এর পাশাপাশি একাধিক মামলাতেও বর্তমানে নজরে রয়েছেন তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা। বিধানসভার সই জালিয়াতি মামলায় তাঁকে একাধিকবার তলব করা হয়েছিল। পরে আদালতের নির্দেশে তদন্তে সহযোগিতা করতে ভবানীভবনে হাজিরাও দেন তিনি।
ডিজে মন্তব্য সংক্রান্ত মামলাতেও সিআইডি ইতিমধ্যে অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। অন্যদিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সম্প্রতি ইডির ডাকে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক এবং আইনি—দু’দিক থেকেই চাপ বাড়ছে বলে মনে করছে পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
এদিকে আমফান ত্রাণ দুর্নীতি, গরুপাচার ও বালিপাচার-সহ একাধিক বিতর্কেও তাঁর নাম উঠে এসেছে বিভিন্ন সময়ে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক তরজা অব্যাহত রয়েছে। তার মধ্যেই মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে নতুন আইনি চ্যালেঞ্জ তৈরি করল বলে মনে করা হচ্ছে



