মঙ্গলবার দুপুরে বেহালা ফ্লাইং ক্লাবে বসে অপেক্ষা—কিন্তু নির্ধারিত সময়ে আকাশে ওঠা হল না। অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের ছাড়পত্র জটিলতায় বীরভূম সফর কার্যত থমকে গেল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। শেষ পর্যন্ত ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সহায়তায় তাঁদের সরকারের একটি হেলিকপ্টার ভাড়া করে বীরভূমের পথে রওনা দিলেন অভিষেক—এমনই দাবি তৃণমূলের। ঘটনার রেশ টেনে রাজনৈতিক তরজাও তুঙ্গে।
বেহালা থেকে হেলিকপ্টারে করে সরাসরি বীরভূম যাওয়ার কথা ছিল ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও কপ্টার ওড়েনি। দলীয় সূত্রের দাবি, প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র মেলেনি। ফলে দুপুর পর্যন্ত ফ্লাইং ক্লাবেই অপেক্ষা করতে হয় তাঁকে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সড়কপথে যাওয়ার বিকল্পও খোলা ছিল—এমন ইঙ্গিত মিলেছিল তৃণমূল শিবিরে।

এদিন রামপুরহাটের বিনোদপুরে জনসভা ছিল অভিষেকের। পাশাপাশি সদ্য মা হওয়া পরিযায়ী শ্রমিক সুনালী খাতুনের সঙ্গে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে দেখা করার কথাও ছিল। কিন্তু দুপুর গড়ালেও হেলিকপ্টার না ওড়ায় দলীয় স্তরে ক্ষোভ ছড়ায়। তৃণমূলের অভিযোগ, যেমন ভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বনগাঁ সফরের আগে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তেমনই ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে’ অভিষেকের কর্মসূচি বানচালের চেষ্টা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৫ নভেম্বর এসআইআর-বিরোধী কর্মসূচিতে যোগ দিতে হেলিকপ্টারের বদলে সড়কপথে বনগাঁ যেতে হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীকে। সেই সভাতেই তিনি সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করেছিলেন। এ দিনও অভিষেকের সফর ঘিরে সেই স্মৃতি টেনে আনে শাসকদল।
তবে তৃণমূলেরই একাংশ সূত্র জানাচ্ছে, ঘন কুয়াশাও সমস্যার কারণ হতে পারে। কপ্টার ওঠানামায় দৃশ্যমানতা কমলে অনুমতির জটিলতা তৈরি হয়—এই যুক্তিও সামনে এসেছে। যদিও তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম কড়া সুরে বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার ভয় পেয়ে গিয়েছে। বীরভূমে লক্ষ লক্ষ মানুষ অপেক্ষায় রয়েছেন। যাই হোক, অভিষেক আসছেন।”


শেষপর্যন্ত ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পর তাঁদের সরকারের সহায়তায় একটি হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা হয়। দুপুর আড়াইটে নাগাদ সেই কপ্টার বীরভূমের উদ্দেশে ওড়ে বলে তৃণমূলের দাবি। মঙ্গলবারের জন্য ঝাড়খণ্ড সরকারের হেলিকপ্টারই ভাড়া নেওয়া হয়েছিল—এ কথাও জানানো হয়েছে দলীয়ভাবে।









