তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় এই মুহূর্তে শিরোনামে আরজি কর। শুক্রবার হাসপাতালের সেমিনার হল থেকে উদ্ধার হয়েছিল এক রক্তাক্ত তরুণীর দেহ। ময়নাতদন্তের পর জানা যায়, সেই তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সেই সেমিনার হলের পাশের একটি ঘর ভাঙার উদ্যোগ নিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হঠাৎ করে কেন এই সিদ্ধান্ত? এটা কি তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা? উঠছে প্রশ্ন।
আরজি কর হাসপাতালে যারা কাজ করেন তাঁরা হাসপাতালের বিভিন্ন পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রশ্ন তুলেছেন নারী সুরক্ষা নিয়েও। অভিযোগ, আরজি করে মহিলা ডাক্তারদের পোশাক পরিবর্তন বা বিশ্রাম নেওয়ার মতো আলাদা কোনও ঘর নেই। তাছাড়া তাছাড়া হাসপাতাল চত্বরে আলোর অভাব রয়েছে। এখন এই ঘর ভাঙার কারণ জানা না গেলেও জানা যাচ্ছে, এই ঘর ভাঙার কাজ শুরু হয়েছিল আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের নির্দেশে! পুলিশের উপস্থিতিতেই চলছিল ভাঙার কাজ। এটি হল মেডিসিন বিভাগের সেমিনার হলের সামনের একটি ঘর। সোমবার এই ঘর ভাঙার কাজ বন্ধ করে জাতীয় মহিলা কমিশন।
আরজি করে কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য। টানা চার দিন ধরে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন বিভিন্ন হাসপাতালের জুনিয়র চিকিৎসকেরা। শহরের নানান প্রান্তে লাগাতার চলছে আন্দোলন বিক্ষোভ। এই ঘটনায় কেবলমাত্র সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলেন্টিয়ার গ্রেফতার হয়েছেন। কিন্তু এই ঘটনার নেপথ্যে আরও কেউ না কেউ জড়িত থাকতে বলে থাকতে পারে বলে সন্দেহ আন্দোলনকারীদের। কলকাতা হাই কোর্টে আজ এই মামলার তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আরজি করের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতা হাই কোর্টে বেশ কয়েকটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। সেই মামলার শুনানিতেই কলকাতা পুলিশের ভূমিকা, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি। ঘটনার পর কেন পরিবারকে তিন ঘন্টা অপেক্ষা করিয়ে আত্মহত্যা হিসাবে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিল পুলিশ? তা নিয়ে রাজ্যকে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছে। অন্যদিকে, কেন তড়িঘড়ি দেহ জ্বালিয়ে দেওয়া হল? এবং ধর্ষণ-খুনের পরিবর্তে অস্বাভাবিক মৃত্যুর ধারায় কেন মামলা রুজু করা হল? তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
আদালতের তরফে আজ সাফ জানানো হয়েছে, পুলিশের তদন্তে তাঁরা সন্তুষ্ট নন। কেস ডায়েরি আজই সিবিআই-এর হাতে হস্তান্তর করে দেবার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। এখন সিবিআই তদন্তভার নেওয়ার পর কী কী পদক্ষেপ নেয় সেদিকেই নজর আছে রাজনৈতিক মহলের। অন্যদিকে, কলকাতা সহ জেলার নানান হাসপাতালে জারি রয়েছে বিক্ষোভ। স্বাধীনতার আগের রাতে রাজপথে মিছিলের ডাক দিয়েছেন মহিলারা।



