‘প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট’! দীপকে-আশুতোষ-সৌরভকে গ্রেফতারই করল দিল্লি পুলিশ

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ এবং এসআইআর বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে পুলিশি পদক্ষেপ। অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে সতর্কতামূলক গ্রেফতারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে ফের পুলিশি পদক্ষেপ। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র তিন নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে সতর্কতামূলক গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। রবিবার সকালে দলের আইনি প্রতিনিধিদের এই গ্রেফতারির কথা জানানো হয়েছে বলে দাবি সিজেপির। অন্যদিকে, শনিবার গভীর রাতে মুক্তি পেয়েছেন ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি।

দলের আইন বিষয়ক প্রধান রত্না সিংহ জানিয়েছেন, রবিবার সকাল ৯টায় তিন নেতাকে দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানায় এগ্‌জ়িকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করানো হয়েছে। তাঁদের মুক্তির দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে সিজেপি।

কোন ধারায় গ্রেফতার তিন নেতা?

দিল্লি পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১২৬ এবং ১৭০ ধারায় তিন নেতাকে সতর্কতামূলক গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এই পদক্ষেপের বিষয়ে পুলিশের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য বা আদালতের পরবর্তী নির্দেশ এই প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

শনিবার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর বাতিলের দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল বলে দলের তরফে জানানো হয়েছে।

সিজেপির দাবি, মুম্বই থেকে দিল্লিতে পৌঁছনোর পর বিমানের ভিতর থেকেই তিন নেতাকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁদের কোথায় রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। রবিবার সকালে পুলিশ তাঁদের গ্রেফতারির কথা জানায় এবং ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে সিজেপির প্রস্তাবিত কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি পুলিশ। তা সত্ত্বেও শনিবার যন্তর মন্তরমুখী জমায়েতের আশঙ্কায় রাজধানী জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। দিনভর ধরপাকড়ের খবর সামনে আসে।

ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরে শনিবার গভীর রাতে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে তাঁর আটকের নির্দিষ্ট কারণ এবং মুক্তির শর্ত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এই প্রতিবেদনে নেই।

গ্রেফতারির আশঙ্কা থেকেই আগাম ভিডিও রেকর্ড করে রেখেছিলেন অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। পরে সেই ভিডিও প্রকাশ করে সিজেপি। সেখানে দীপকে জানান, তাঁদের অনুপস্থিতিতে অজিঙ্ক শিন্দে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন।

দলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিন নেতা আটক বা গ্রেফতার হলে আন্দোলন যাতে থেমে না যায়, সেই দায়িত্ব অজিঙ্ক শিন্দের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। সেই মতো রবিবারও যন্তর মন্তরে জমায়েতের ডাক দিয়েছে সিজেপি।

তিন নেতার গ্রেফতারির পর তাঁদের মুক্তির দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে দলটি। বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশি পদক্ষেপ এবং সতর্কতামূলক গ্রেফতারির বৈধতা নিয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর।

তবে এই ঘটনায় পুলিশের বক্তব্য, আদালতে দায়ের করা আবেদনের বিস্তারিত এবং ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ্যে না আসা পর্যন্ত গ্রেফতারির আইনি পরিণতি নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাচ্ছে না।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন